শামীম-খালেদের অস্ত্র মামলার চার্জশিট আদালতে

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২:৫১ এএম

অস্ত্র মামলায় যুবলীগ নামধারী ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া (জিকে) শামীম ও বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আদালতে পৃথক অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে র‌্যাব। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় গতকাল রবিবার খালেদ ও শামীমের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান, শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় গতকাল অভিযোগপত্র জমা দেন র‌্যাব-১ এর এসআই শেখর চন্দ্র মল্লিক। আর খালেদের বিরুদ্ধে গত ২০ অক্টোবর অভিযোগপত্র জমা দেন র‌্যাব-৩ এর সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন।

শামীমের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, তিনি একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, অবৈধ মাদক এবং জুয়া ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তার সহযোগীরা উচ্চ বেতনভোগী দুষ্কর্মের সহযোগী। তারা অস্ত্রের লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে প্রকাশ্যে এসব অস্ত্রশস্ত্র বহন ও প্রদর্শন করেছেন। এর মাধ্যমে তারা জনমনে ভীতি সৃষ্টি করে বিভিন্ন ধরনের টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসাসহ স্থানীয় বাস টার্মিনাল ও গরুর হাট-বাজারে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। আসামি শামীম অস্ত্রের শর্ত ভঙ্গ করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাদক ব্যবসা ও মানি লন্ডারিং করে আসছিলেন। অস্ত্র মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত শামীমের সাত দেহরক্ষী হলেনÑ নওগাঁর দেলোয়ার হোসেন, গোপালগঞ্জের মুরাদ হোসেন, বাড্ডার জাহিদুল ইসলাম, যশোরের শহিদুল ইসলাম, ভোলার কামাল হোসেন, নীলফামারীর সামসাদ হোসেন ও বাগেরহাটের আমিনুল ইসলাম। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানের নিকেতনে অভিযান চালিয়ে যুবলীগ নেতা শামীমসহ তার সাত দেহরক্ষীকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

খালেদের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, মতিঝিলের ইয়ংমেনস ক্লাব, আরামবাগ ক্লাবসহ ফকিরাপুলের অনেক ক্লাবে ক্যাসিনোর আসর বসিয়ে মাদক ব্যবসাসহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিলেন তিনি। এসব অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন। খালেদ খিলগাঁও-শাজাহানপুর চলাচলকারী গণপরিবহন থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন। কোরবানির ঈদের সময় শাজাহানপুর কলোনি মাঠ, মেরাদিয়া, কমলাপুর ও সবুজবাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেখান থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করেছেন। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে রাজউক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, রেল ভবন, ক্রীড়া পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, যুব ভবন, কৃষি ভবন, ফকিরাপুলসহ বেশিরভাগ এলাকার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতেন খালেদ। মাদক ব্যবসা, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি করার জন্য গড়ে তোলেন বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, দুটি অস্ত্রের লাইসেন্সে ৫০টি করে গুলি কেনার হিসাব থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তার হেফাজত থেকে শটগানের সাতটি এবং পিস্তলের ৯টি অতিরিক্ত গুলি উদ্ধার করা হয়। এগুলো ২০১৭ সালের পর নবায়ন করা হয়নি। এগুলো অবৈধ অস্ত্র। অবৈধ টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা পরিচালনার জন্য খালেদ এসব অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করতেন। মামলায় ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর মাদক, অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হন যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ।

ফের রিমান্ডে : দুদকের মামলায় শামীম ও খালেদের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। দুদকের করা আবেদনে গতকাল শুনানি নিয়ে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত এই আদেশ দেয়। তাদের ১০ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন আদালতকে বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জি কে শামীমের ২৯৭ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য জানা গেছে। অসংগতিপূর্ণ এই সম্পদের উৎস জানার জন্য শামীমকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। খালেদের ব্যাপারে আদালতকে তিনি বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে খালেদের ৫ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য জানা গেছে। এই অসংগতিপূর্ণ সম্পদের উৎস জানার জন্য তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ থাকার অভিযোগে ২১ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত