আসামের বন্দিশিবিরে আরেকজনের মৃত্যু

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২:৫৬ এএম

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের একটি বন্দিশিবিরে আরেক ব্যক্তি মারা গেছেন। অবৈধ বাংলাদেশি তকমা লাগিয়ে ২০১৭ সালের মাঝামাঝিতে গ্রেপ্তার ৭২ বছরের ফালু দাস গত ২৩ অক্টোবর রাতে গুয়াহাটির মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। তার পরিবার বলছে, পুরো পরিবারকে ভারতীয় ঘোষণা না করলে তার মরদেহ নেওয়া হবে না।

দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আসামের নলবাড়ি জেলার সুতিমারি গ্রামের বাসিন্দা মৎস্যজীবী ফালু দাসকে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল ২০১৭ সালে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করে গোয়ালপাড়ার বন্দিশিবিরে পাঠিয়েছিল। অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১১ অক্টোবর তাকে গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। সেখানেই মারা যান তিনি। এ নিয়ে আসামের বিভিন্ন বন্দিশিবিরে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে।

এর আগে শোনিতপুর জেলার দুলাল পাল নামের এক ব্যক্তি বন্দিশিবিরে মারা যান। তার পরিবার বলেছিল, তাকে যেহেতু ‘বাংলাদেশি’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে, তাই মৃতদেহও সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া হোক। অবশ্য মৃত্যুর ১০ দিন পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়ালের হস্তক্ষেপে দুলালের মরদেহ নিয়ে সৎকার করে পরিবারটি।

ফালু দাসের মৃত্যুর পর খবর পাঠানো হলে ছেলেমেয়েরা মরদেহ নিতে অস্বীকার করেন। বড় ছেলে ভগবান দাস বলেন, ‘বাবাকে যেহেতু বাংলাদেশি বলে ঘোষণা করা হয়েছিল, তাহলে দেহ নিয়ে এসে কী করব? বাংলাদেশেই যাক দেহ।’

ফালু দাসকে ট্রাইব্যুনাল ‘বিদেশি’ ঘোষণা করায় নিয়ম অনুযায়ী তার ছেলেমেয়েদের নামও এনআরসি বা নাগরিকপঞ্জিতে ওঠেনি। প্রশাসনের কাছে পরিবারটির দাবি, যতক্ষণ না তাদের সবার নাম এনআরসিতে তোলা হচ্ছে এবং ভারতীয় বলে ঘোষণা না করা হচ্ছে, ততক্ষণ তারা মৃতদেহ নেবেন না। তাদের দাবি, ১৯৫১ সালের প্রথম নাগরিকপঞ্জিতে ফালু দাসের নাম ছিল। এছাড়াও তারা যে ভারতীয় সেই তথ্যপ্রমাণ হিসেবে ১৯৭১ সালের আগের অনেক নথিই জমা দিয়েছিলেন।

আসামের ১৯ লাখেরও বেশি মানুষের নাম জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি থেকে বাদ পড়েছে। গত শনিবার পরিবারটির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল বাঙালি নেতাদের একটি দল। তাদের মধ্যেই ছিলেন সারা আসাম বাঙালি ছাত্র যুব ফেডারেশনের বাকসা জেলার নেতা মদন সাহা। তিনি বলেন, ‘ফালু দাসের বাবার নাম ছিল ভুলু রাজবংশী। অনেকের মতোই পদবি বদল করেছিলেন ফালু দাস। সেখানেই সমস্যাটা হয়েছে। যদিও ১৯৫১ সালের প্রথম এনআরসি বা ৬৬ সালের ভোটার লিস্টের সার্টিফায়েড কপি সবই দেখলাম আমরা। কিন্তু ট্রাইব্যুনালে সেগুলো গ্রাহ্য করেনি। সেজন্যই বন্দিশিবিরে এভাবে মারা যেতে হলো তাকে।’

এদিকে পরিবারটিকে বুঝিয়ে শুনিয়ে মরদেহ নিতে রাজি করানোর চেষ্টা করছে প্রশাসন। নলবাড়ি জেলার ডেপুটি কমিশনার ভরত ভূষণ দেব চৌধুরী বলেন, ‘তারা তিনটি দাবি করেছে, সরকারকে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে পরিবারের প্রত্যেকের নাম এনআরসিতে তুলে দেওয়া হবে, দ্বিতীয়ত, পরিবারের কাউকে বিদেশি বলে আটক করা হবে না আর তৃতীয়ত কিছু আর্থিক সাহায্যের কথা জানিয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত