এবারের এমপিওভুক্তি কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিবেচনায় হয়নি দাবি করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘কোনো অযোগ্য প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়নি এবং নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি থেকে বঞ্চিত হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভুল তথ্য দিয়ে এমপিওর তালিকাভুক্ত হয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করে বাতিল করা হবে।’ গতকাল রবিবার বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) সম্মেলন কক্ষে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আবেদন করা ৯ হাজার ৬১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে নীতিমালা অনুযায়ী ২ হাজার ৭৩০টি এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি উপজেলার কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়নি, তার মধ্যে আবার ৩০টি উপজেলার কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবেদন করেনি। তার মানে আবেদন করেছে কিন্তু কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেখানে এমপিওভুক্ত হয়নি এমন উপজেলার সংখ্যা আটটি।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘হবিগঞ্জের শাহজালাল কলেজ জাতীয়করণ হয়েছে। সেটিও আবার এমপিওভুক্তির তালিকায় এসেছে, এটি একটি ভুল। তবে ২ হাজার ৭৩০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই একটি ভুল যা কোনো শতাংশের হিসাবে আসে না।’
যুদ্ধাপরাধীদের নামে যেসব প্রতিষ্ঠান এমপিওর তালিকাভুক্ত হয়েছে তাদের নাম পরিবর্তন করা হবে বলে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নামের ভিত্তিতে নয় বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে। তবে যুদ্ধাপরাধীদের ও বিতর্কিত নামের প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম পরিবর্তনের কাজ চলমান রয়েছে। আমরা পর্যায়ক্রমে সেগুলোর নাম পরিবর্তন করব।’
মন্ত্রী বলেন, ‘শর্ত অনুযায়ী এমপিওভুক্তির আদেশ জারির পর যেকোনো পর্যায়ে যদি প্রমাণিত হয় যে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি কোনো শর্ত ভঙ্গ করেছে বা অসত্য তথ্য প্রদান করে এমপিওভুক্ত হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আদেশ কার্যকর হবে না। পাশাপাশি অসত্য তথ্য প্রদানকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
আগে এমপিওভুক্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের যোগ্যতা ধরে রাখতে হবে। তা না হলে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত গত বুধবার (২৩ অক্টোবর) দীর্ঘ ১০ বছরের জটিলতার পর ২ হাজার ৭৩০টি এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেয় সরকার।
