অভিজিতের কাছে সোশ্যাল মিডিয়া বিষ

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:৩৪ এএম

সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া আজকের যুগ অচল মনে করা হলেও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও এমআইটির অধ্যাপক অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় একেবারেই পছন্দ করেন না সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সোশ্যাল মিডিয়াকে ‘বিষের মতো’ আখ্যায়িত করেছেন। তবে এসব ছাড়া যেহেতু চলবে না তাই তার জন্য শক্তিশালী তদারকি প্রতিষ্ঠান গড়ার পরামর্শ তার। যদিও এ অর্থনীতিবিদ জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিষয়ে তার কোনো গবেষণা নেই।

ভারতভিত্তিক অনলাইন সংবাদপত্র দ্য ওয়্যারে প্রচারিত সাংবাদিক করন থাপারের নেওয়া সাক্ষাৎকারটিতে নানা বিষয়ে কথা বলেন কলকাতার ছেলে অভিজিৎ। স্ত্রী এস্থার ডাফলো ও হার্ভার্ডের অধ্যাপক মাইকেল ক্রেমারের সঙ্গে এবারের অর্থনীতির নোবেল জয় করেছেন প্রেসিডেন্সি কলেজের অর্থনীতির প্রয়াত অধ্যাপক দীপক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে অভিজিৎ। তার মাও অর্থনীতির অধ্যাপক। অভিজিতের নতুন বই ‘গুড ইকোনমিকস ফর হার্ড টাইমস’-এ গণতন্ত্রের ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে বলে বলা হয়েছে। সাংবাদিক করন থাপার বিষয়টির অবতারণা করলে এ নিয়ে দুজন আলোচনা করেন। অভিজিৎ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া রাজনীতিতে অনেক মেরুকরণ তৈরি করেছে। উদাহরণ দিয়ে বলেন, এখানে কাি•ক্ষত ব্যক্তিকে তার কাি•ক্ষত বার্তা দেওয়া সম্ভব। ফলে যেকোনো রাজনীতিক চাইলে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে তার চাহিদামতো বক্তব্য সরবরাহ করতে পারেন। যিনি জাতীয়তাবাদ চান তাকে জাতীয়তাবাদ দিলেন, যিনি ধর্ম চান তাকে ধর্ম দিলেন। যিনি বিজ্ঞান চান তাকে বিজ্ঞান দিলেন। এভাবে ব্যক্তিকে তার পছন্দসই বক্তব্য দিয়ে তার মতকে অন্ধ বানানো সম্ভব। এরপর আছে, ফেইক বা বানোয়াট সংবাদ দেওয়া। নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ফেইক সংবাদ সরবরাহ করে রাজনৈতিক বা যেকোনো উদ্দেশ্য হাসিল করা সম্ভব। সোশ্যাল মিডিয়ার আরও সমালোচনার পাশাপাশি এর ভাষা নিয়েও তার আপত্তি আছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ভাষায় নাগরিক ভদ্রতার স্বাভাবিক মান মানা হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ার এলগরিদমেরও সমালোচনা করেন এ সমাজবিজ্ঞানী। এর ফলে ব্যক্তি তার অভ্যাস ও পছন্দমতো কন্টেন্ট পান জানিয়ে তিনি বলেন, এতে ব্যক্তি নিজের অন্দরে বন্দি হয়ে পড়ে। গণতন্ত্রের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ক্ষতিকর– এ অভিমতের সপক্ষে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে কেউ কারও কথা শুনছে না। ফলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ও নানা দাঙ্গা বাধানো সহজ। উদাহরণ দেন অভিজিৎ, ভারতে মুসলমান ও দলিত সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের এটিও একটি বড় কারণ হতে পারে। এর সমাধান কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইন তো রয়েছেই। এ ড়্গেত্রে আইন যাতে দ্রুত কার্যকর করা যায় সে ব্যবস্থা বের করতে হবে। আমি কোনোভাবেই সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের কথা বলিনি, কারও মতপ্রকাশ বন্ধ করতেও বলছি না। আমি চাইছি, আইন যে ভঙ্গ হচ্ছে তার যেন সাজা হয় দ্রুত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত