মাদক মামলা

কারাগারে থেকেও ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি তোতা

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:৩৯ এএম

তোতা মিয়ার বিরুদ্ধে ফেনসিডিল ও ইয়াবার কারবারসহ চোরাচালানের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাবন্দি। তবে কারাগারে থেকেই তিনি সভাপতি হয়েছেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তোতা সভাপতি নির্বাচিত হন। সম্মেলনে সভাপতি পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী অপর তিন প্রার্থী ‘চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারি’ তোতা মিয়ার প্রার্থিতা বাতিলের জন্য জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে লিখিত আবেদন জানালেও তাতে কোনো কাজ হয়নি। তাদের আপত্তি উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত কাউন্সিলে তোতা মিয়াই সভাপতি হয়েছেন। আর এ নিয়ে কানাইঘাট উপজেলা ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগে চলছে তোলপাড়।

চিহ্নিত অপরাধী তোতা মিয়া টাকার জোরে সভাপতি হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা বলছেন, কতিপয় নেতা নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে চিহ্নিত অপরাধী তোতা মিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তোতা মিয়াকে সভাপতি পদ থেকে বাদ না দিলে এ ব্যাপারে দলের হাইকমান্ডে অভিযোগের পাশাপাশি আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধরা। তোতা মিয়া সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার ঘটনায় কানাইঘাট আওয়ামী লীগে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে দলে চলমান শুদ্ধি অভিযানের এই সময়ে চিহ্নিত অপরাধী তোতা মিয়া কীভাবে একটি ইউনিট আওয়ামী লীগের সভাপতি হলেন– এ প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোতা মিয়ার নানা অপরাধের তথ্য তুলে ধরে গত বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকা জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের তুলোধুনো করছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে সভাপতি পদে প্রার্থী হন মাদক মামলায় কারাগারে থাকা তোতা মিয়া। তোতা মিয়ার ভাই জাকারিয়াসহ পরিবারের আরও একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধেও মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগে মামলা রয়েছে। অভিযোগের কারণে সভাপতি প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে এমন শঙ্কায় তোতা মিয়ার ভাই জাকারিয়াও সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছিলেন। সম্মেলনে সভাপতি পদের অপর তিন প্রার্থী- ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল খালিক ও বোরহান উদ্দিন মহরির সভাপতি পদে তোতা মিয়ার প্রার্থিতা বাতিলের জন্য জেলা নেতৃবৃন্দের কাছে লিখিত আবেদন জানান। কিন্তু তাদের আবেদনে সাড়া দেননি সম্মেলনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী দুলাল। সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচিত হন তোতা মিয়া।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে একাধিক কাউন্সিলর দেশ রূপান্তরকে বলেন, তোতা মিয়া টাকা দিয়ে ভোট কিনেছেন। জেলে থেকেই তোতা মিয়া তার ভাই জাকারিয়াকে নির্দেশ দেন- যত টাকা লাগে খরচ করে হলেও তিনি যেন সভাপতি নির্বাচিত হন। তার নির্দেশে জাকারিয়া কাউন্সিলরদের মন জয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করেছেন।

সভাপতি পদে পরাজিত প্রার্থী ফখর উদ্দিন বলেন, ‘দলের সভাপতি, জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন দলে শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছেন, তখন তোতা মিয়ার মতো অপরাধীকে সভাপতি পদে বসিয়ে উপজেলা ও জেলা নেতৃবৃন্দ কী বার্তা দিতে চাচ্ছেন তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়।’

অপর পরাজিত প্রার্থী আবদুল খালিক বলেন, ‘টাকার জোরে কতিপয় নেতার আশীর্বাদে মাদক ও চোরাচালান মামলার আসামি তোতা মিয়া সভাপতি হয়েছেন। তাকে বাদ না দিলে দলের হাইকমান্ডের কাছে আমরা বিচারপ্রার্থী হব’।

আরেক পরাজিত প্রার্থী বোরহান উদ্দিন মহরি বলেন, ‘তোতা মিয়া এর আগে একটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ পেয়ে নানা অপকর্ম করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। এখন তিনি কীভাবে ইউনিয়নের সভাপতি হলেন তা আমরা বুঝতে পারছি না।’    

কানাইঘাট থানার ওসি মো. শামসুদ্দোহা জানান, তোতা মিয়ার বিরুদ্ধে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগে ৩টি মামলা রয়েছে। একটি মামলায় গত ৯ অক্টোবর তিনি গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে রয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক লুৎফুর রহমান বলেন, ‘সম্মেলনের দিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা তোতা মিয়ার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তোতা মিয়ার প্রার্থিতা বাতিল না করেই কাউন্সিল সম্পন্ন করা হয়। এখন বিষয়টি জেলা নেতৃবৃন্দ দেখছেন।’

অন্যদিকে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তোতা মিয়ার বিরুদ্ধে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা অভিযোগ দিয়েছেন। এই অভিযোগের বিষয়ে জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে অচিরেই বৈঠকে বসে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত