দেশব্যাপী দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভের জেরে গতকাল মঙ্গলবার লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সিএনএন। মঙ্গলবার টেলিভিশনে এক ভাষণে হারিরি জানান, তিনি প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।
এ সময় তিনি বলেন, ‘গত ১৩ দিন ধরে লেবাননের জনগণ রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে দেশের পতন আটকাতে একটি সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছে। এই সময়ে আমি সমাধানের একটা পথ খুঁজে বের করতে সব রকমভাবে চেষ্টা করেছি, যার মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছা প্রকাশ পাবে। এই সংকট সমাধানের জন্য একটি প্রচণ্ড ধাক্কার প্রয়োজন ছিল।’
গত ১৭ অক্টোবর লেবানন সরকার হোয়াটসঅ্যাপসহ যোগাযোগের অন্য অ্যাপগুলোর ওপর করারোপের ঘোষণা দেয়। যার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে দেশটির সাধারণ মানুষ। যা ধীরে ধীরে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়। এখন বিক্ষোভকারীরা দেশটিতে রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি করছে। বিক্ষোভকারীরা সাদ হারিরির পদত্যাগের দাবিও জানায়।
বিশ্বের শীর্ষ ঋণগ্রস্ত দেশগুলোর একটি লেবাননে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। এ অবস্থায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও অচলাবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। অচলাবস্থা নিরসনে হারিরির সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিলেও আন্দোলনকারীরা তাদের বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে।
লেবাননে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। দেশটিতে টেলিফোন বা মোবাইলে কথা বলা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তাই বাধ্য হয়েই নাগরিকরা বিনামূল্যে কথা বলতে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে।
টানা তিন দফায় লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন সাদ হারিরি।
