ধাক্কা সামলে দিল্লিতে ক্রিকেটাররা

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০১৯, ০২:১৭ এএম

আর দুদিন পর ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ। কিন্তু মঙ্গলবার সকালেও দলের সব সদস্যের নাম ঠিক ছিল না। তার ওপর টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞার খবর। সব মিলিয়ে মঙ্গলবার খুব বড় ধাক্কা হজম করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। তবুও সফরের জন্য প্রস্তুত হয়ে গতকাল দুপুর ৩টায় ভারতের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ক্রিকেটাররা। নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বে দেশের ক্রিকেটে সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন সময় কঠিন এক সিরিজ খেলতে হবে বাংলাদেশকে। দেশ ছাড়ার আগে কঠিন সিরিজের জন্য প্রস্তুত থাকার কথা সুর মিলিয়ে বলে গেলেন ক্রিকেটাররা। সেই সঙ্গে সাকিবের না থাকায় অপূর্ণতার কথাও উচ্চারিত হলো তাদের কণ্ঠে। নতুন দায়িত্ব ঠিকঠাক পালনের চেষ্টার পাশাপাশি এই কঠিন সময়ে দেশকে ভালো কিছু উপহার দেওয়ার প্রত্যয় জানিয়ে গেলেন মাহমুদউল্লাহ, ‘প্রথমত এখন যেহেতু দায়িত্ব এসেছে, আমি চেষ্টা করব ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে। অনুপ্রেরণার কথা বললে, আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা যখন দেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামি। এর চেয়ে বড় অনুপ্রেরণা আর কিছু হতে পারে বলে আমি মনে করি না। তো আমরা সবাই চেষ্টা করব দল হিসেবে যেন ভালো একটা ফলাফল আনতে পারি।’

কিন্তু ভারত যেখানে অপ্রতিরোধ্য সেখানে ভালো কিছু পাওয়াটা কতটুকু কঠিন। মাহমুদউল্লাহ জানান, ‘অবশ্যই কঠিন, পরিসংখ্যান তো তাই বলে। শেষ ১১-১২টা সিরিজে তো ওরা অপরাজেয়। অনেক কঠিন কাজ, একই সঙ্গে ভালো করা অসম্ভব কিছু না। দল হিসেবে আমাদের অনেক ভালো খেলতে হবে। ছোট ছোট প্রতিটা সুযোগ, সবাইকে নিশ্চিত করতে হবে যেন এই সুযোগগুলো শতভাগ কাজে লাগাতে পারি এবং এভাবে যেন আমার ম্যাচ জিততে পারি।’

এই সিরিজে টেস্টে নতুন নেতৃত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ। মুমিনুলকে টেস্ট অধিনায়ক করাটা সঠিক বলে নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক জানান, ‘এটা সঠিক একটি সিদ্ধান্ত। টেস্টের অধিনায়কত্ব মুমিনুলের প্রাপ্য ও যোগ্য। সে গত কয়েক বছর ধরে টেস্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে আসছে তাই তাকে নেতৃত্ব দেওয়াটা যুক্তিসংগত।’

তামিম-সাকিব না থাকায় মাহমুদউল্লাহর পর দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। এই সিরিজে আলাদা দায়িত্ব পালন করতে হবে তাকে। সে ব্যাপারে সচেষ্ট মুশফিক। সেই সঙ্গে সাকিব না থাকায় বাড়তি চ্যালেঞ্জ ও নতুনদের জন্য সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি, ‘এখানে নতুন যারা আছে তাদের জন্য একটা ভালো সুযোগ। আল্লাহ না করুক, সাকিব যদি নিষিদ্ধ  না হয়ে ইনজুরিতে পড়ত এক বছরের জন্য, শুধু সাকিব না আমিও অথবা যে কেউ যদি এক বছরের জন্য দলের বাইরে চলে যেত তাহলে কী হতো? এখন জিনিসটা ওভাবে দেখে আমাদের সাকিবের জন্য হলেও ভালো খেলতে হবে।’

কঠিন কিছুদিনের পরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সিরিজে নেমে যেতে হচ্ছে ক্রিকেটারদের। এই সময়ে কোন বিষয় বাংলাদেশের ক্রিকেটকে একটা স্বস্তি দিতে পারে? নতুন এই চ্যালেঞ্জ থেকেই ভালো করার প্রেরণা খুঁজছেন মুশফিক, ‘আসলে ক্রিকেট খেলায় তো ওরকম ভাবে কেউ গ্যারান্টি দিতে পারে না। এখন ভালো রেজাল্টই আমাদের ক্রিকেটকে ভালো পথে নিয়ে আসতে পারে। এই ফোকাসটা আমাদের সবার মধ্যে আছে, এই চ্যালেঞ্জটা নেওয়ার জন্য আমরা সবাই এখন তৈরি। আর সিরিজটি এক নম্বর দলের বিপক্ষে ওদের ঘরের মাঠে, চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই থাকবে। আর চ্যালেঞ্জ যখন থাকে তখনই ভালো করার প্রেরণাটা আরও বেশি থাকবে।’

সাকিবের জায়গায় এখন স্পিন বিভাগের দায়িত্ব নিতে হবে আরাফাত সানিকে। অনেকদিন পর দলে ডাক পেয়েই এমন পরিস্থিতির জন্য তৈরি ছিলেন না এই স্পিনার। ভারতের মাটিতে সাকিবের উপস্থিতি খুব মিস করছেন তিনি, ‘অবশ্যই কোনো সন্দেহ নেই যে সাকিব আমাদের বেস্ট প্লেয়ার। দীর্ঘদিন সে এক নম্বর ক্রিকেটার হিসেবে ডমিনেট করছে। সে থাকলে আমার অনেক সুবিধা হতো। সে আইপিএলে খেলায় ভারতের সব মাঠের উইকেটে খেলেছে। সে থাকলে আমি টিপস নিতে পারতাম। তাই ও থাকলে আমার জন্য বাড়তি পাওয়া হতো।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত