রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে বেলুন ফোলানোর গ্যাসের যে সিলিণ্ডার বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, সেটি হাইড্রোজেন গ্যাস তৈরির রি-অ্যাক্টর ছিল বলে জানিয়েছেন বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক শামসুল আলম। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ‘রুড মেথডে’ (বিপজ্জনক পদ্ধতি) এটি হকাররা তৈরি করে। অ্যালুমিনিয়ামের কুচি ও কস্টিক সোডা মিশিয়ে গ্যাস তৈরির সময় এটির বিস্ফোরণ ঘটেছে।
গতকাল বুধবার বিকেলে রূপনগর আবাসিক এলাকায় গ্যাস বেলুনের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছে আরও অন্তত ১৭ জন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
শামসুল আলম বলেন, ‘এটা হাইড্রোজেন গ্যাস রি-অ্যাক্টরের বিস্ফোরণ। এভাবে হাইড্রোজেন গ্যাস তৈরির কোনো অনুমোদন নেই। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এর আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনেকবার চিঠি দিয়েছি। এরপরও কেউ ব্যবস্থা নেয়নি। যখন দুয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটে, তখন কতৃ©পক্ষ নড়েচড়ে বসে। এ ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। রাস্তায় যে কেউ এভাবে বেলুনে গ্যাস ভরে বিক্রি করতে দেখলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে খবর দেওয়া উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিমœমানের লোহার সিলিন্ডারে প্রথমে কস্টিক সোডা মিশ্রিত পানির দ্রবণ ভরে তারা। এরপর দ্রবণে অ্যানোড ও ক্যাথোড দণ্ড দিয়ে পাত্র বা সিলিন্ডারের মুখ ছিপি দিয়ে আটকে দেয়। তারপর ব্যাটারির সাহায্যে অ্যানোড ও ক্যাথোডের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হলে দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। পাত্র বা সিলিন্ডারের ছিপিতে সংযুক্ত নল দিয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস নির্গত হয়। এই গ্যাস বেলুনে ভরে বিক্রি করা হয়। অনেক সময় বিদ্যুৎ প্রবাহের সময় দ্রবণে বিক্রিয়ার মাত্রা বেড়ে গেলে তা দ্রুত বিস্ফোরিত হয়। এ ছাড়া বেলুনে গ্যাস ভরতে ভরতে লোহার পাত্রটি ক্ষয়ে যায়, কখনো কখনো মিশ্রণের সময় অত্যধিক গরম হয়ে যায়। নিয়ম মতো তৈরির দক্ষতা না থাকায় অতিরিক্ত গ্যাস উৎপাদন হয়ে সেটির বিস্ফোরণ ঘটে।’
