গতকাল ছিল ‘সুন্দরবন জলদস্যুমুক্ত দিবস’। গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনটিকে ‘সুন্দরবন জলদস্যুমুক্ত দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই জলদস্যুমুক্ত করার দুঃসাহসিক সব গল্প নিয়ে এবার তৈরি হচ্ছে সিনেমা। নাম ‘অপারেশন সুন্দরবন’। এতে অভিনয় করবেন চিত্রনায়ক রিয়াজ, সিয়াম আহমেদ, রোশান, তাসকিন রহমান, চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া, ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মনোজ প্রামাণিকসহ অনেকে। এরই মধ্যে তারা সবাই সিনেমাতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। গতকাল সকালে বাগেরহাট স্টেডিয়ামে জলদস্যুমুক্ত দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে সিনেমাটির লোগো উন্মোচন ও শিল্পীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। ‘অপারেশন সুন্দরবন’ সিনেমার পরিচালক দীপংকর দীপন জানিয়েছেন, ‘অপারেশন সুন্দরবন’-এর শিল্পীদের পরিচয় অনুষ্ঠানে গত বছর আত্মসমর্পণ করা জলদস্যুরাও ছিলেন। আরও ছিলেন কোস্টগার্ড আর সুন্দরবন ঘিরে গড়ে ওঠা বনজীবীরা।’
এ সিনেমায় সিয়াম আহমেদ একজন র্যাব কর্মকর্তা। তিনি বলেনÑ ‘আমাদের পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনীর সদস্যরা দেশের জন্য, দেশের স্বার্থে অনেক কিছু ত্যাগ করেন। সেই ধরনের একটি চরিত্র সায়েম। এই চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য গর্বের।’ চরিত্রটির জন্য নিজেকে কীভাবে প্রস্তুত করছেন? সিয়াম বলেন, ‘এর আগে র্যাব সদর দপ্তরে চরিত্রটির ওপর কয়েকটি কর্মশালা করেছি। এ ধরনের চরিত্রের জন্য কৌশলী হতে হয় আর মেধা খাটাতে হয়। শ্যুটিংয়ের আগে আরও কিছু প্রশিক্ষণ হবে।’
নুসরাত ফারিয়াকে দেখা যাবে একজন বাঘ গবেষকের চরিত্রে। তিনি বলেন, ‘খুবই শক্তিশালী চরিত্র। দীপংকর দীপনের ‘ঢাকা ২০৪০’ নামে আরেকটি সিনেমার শ্যুটিং চলছে। আমি মনে করি, দুটি সিনেমার চরিত্র পরিচালকের কাছ থেকে আমার জন্য বড় উপহার।’
‘অপারেশন সুন্দরবন’ যৌথভাবে প্রযোজনা করছে র্যাব ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ও থ্রি হুইলার। এর গল্প লিখেছেন একটি গবেষণা দল -আরডিটি। চিত্রনাট্য লিখেছেন যৌথভাবে নাজিম উদ-দৌলা ও দীপকংর দীপন।
দীপংকর দীপন বলেন, ‘গত বছর এপ্রিল মাসে কাজটি করার প্রস্তাব আসে র্যাব থেকে। বিষয়টি নিয়ে সিনেমা করা যাবে কি না, তা গবেষণা করে বুঝতেই ছয় মাস লেগে যায়। যেহেতু সুন্দরবন জলদস্যুমুক্ত করতে ১০ বছর লেগেছে। সেই বিষয়গুলো থাকতে হবে। পাশাপাশি সুন্দরবনকে ঘিরে বহু মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয় আছে। সব মিলে কাজটি সহজ নয়। পরে এক বছর গবেষণা করে একটা জায়গায় এসে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কাজটি করব।’
সিনেমাটির গল্প প্রসঙ্গে দীপংকর দীপন জানান, জলদস্যু নিধনের জন্য অভিযান চালাতে গিয়ে র্যাব বুঝতে পারে, এর শিকড় অনেক গভীরে। যাদের সঙ্গে খুলনা, বাগেরহাট, পাথরঘাটা, রামপাল, মোংলা, সাতক্ষীরা অঞ্চলের অনেক মানুষ জড়িত। সুন্দরবন মাছ ও কাঁকড়ার চারণক্ষেত্র। কোটি কোটি টাকার ব্যবসা। র্যাব তখন গভীরে ঢোকার চেষ্টা করে। কাজটি করতে গিয়ে তারা চমকে যায়, যা তাদের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়। এভাবে গল্প এগিয়ে যাবে। আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে সিনেমাটির শ্যুটিং শুরু হবে।