মতিঝিল থেকে নিকুঞ্জে ডিএসই

দূরত্বের সঙ্গে বাড়বে ব্যয়ভার

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০১৯, ০১:০৪ এএম

প্রায় এক যুগ ধরে নির্মাণের পর রাজধানীর নিকুঞ্জে অবস্থিত ভবনে যাচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। মতিঝিলের অফিস ছেড়ে নিকুঞ্জের চার বিঘা জায়গায় নির্মিত ভবনে আজ ডিএসই তাদের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। যদিও এখনো অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় ডিএসইর সব বিভাগ এখনই তাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারছে না। তবে অস্বাভাবিক নির্মাণ ব্যয়, পরিচালন খরচ ও অবচয়ের কারণে ডিএসইর নতুন ভবন বোঝা হয়ে দাঁড়াবে বলে জানা গেছে।

১৯৯৬ সালে নিজস্ব ভবন তৈরিতে নিকুঞ্জে সরকারি চার বিঘা জমি বরাদ্দ পায় ডিএসই। ২০০৭ সালে ‘ডিএসই টাওয়ার’ নামে ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ। প্রায় ১২ বছরেরও বেশি সময় লাগল ছয় লাখ বর্গফুটের বেশি আয়তনের এই ভবন নির্মাণে। এতে প্রায় হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে ডিএসই। যদিও ভবনটি নির্মাণের শুরুতে এর ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮০ কোটি টাকা। এরপর ধাপে ধাপে ব্যয় বেড়ে বর্তমানে তা প্রায় হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ও অবচয় চার্জ শুরু হলে ডিএসইর নিট মুনাফায় ধস নামতে পারে। নিকুঞ্জের এই ডিএসই টাওয়ারে ভবন, যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বছরে অন্তত ২০ কোটি টাকা অবচয় বাদ রাখতে হবে ডিএসইকে। আর এই অত্যাধুনিক ভবনে ডিএসই কর্তৃপক্ষ অফিস শুরুর পর প্রতি বছর ডিএসইর পরিচালন ব্যয় অন্তত ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা বাড়বে বলে জানা গেছে। এতে করে অবচয় ও পরিচালন ব্যয়সহ বছরে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়বে ডিএসইর।

২০১৭-১৮ হিসাব বছরে ডিএসইর নিট মুনাফা হয় ১০৪ কোটি টাকা। পরের বছর তা আরও কমবে বলে জানা গেছে। কারণ, বাজার পরিস্থিতি মন্দার কারণে ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে লেনদেন থেকে ডিএসইর আয় কমেছে। ডিএসইর আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস সুদ আয়ও কমে যেতে পারে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা স্থায়ী আমানত থেকে ডিএসই ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে সুদ আয় ছিল ৮৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ওই বছর নিট মুনাফার চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দেওয়ায় ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে ডিএসইর স্থায়ী আমানতের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।

নিট মুনাফা কমে যাওয়া ও ডিএসই টাওয়ারের কারণে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডিএসইর নিট মুনাফা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাবে। ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে ডিএসইর ব্যয় ছিল ১২৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর সঙ্গে নতুন ভবনের অবচয়সহ পরিচালন ব্যয় ৮০ কোটি টাকা যোগ হলে ব্যয় দাঁড়াবে ২০৮ কোটি টাকা। যদিও ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে লেনদেন, লিস্টিং ফি, সুদ ও লভ্যাংশ আয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে ডিএসইর মোট আয় ছিল ২০৯ কোটি টাকা। ফলে নতুন ভবন বাবদ অতিরিক্ত ব্যয় বাদ দেওয়ার পর আগামীতে ডিএসই মুনাফায় থাকবে কি না, তা নিয়েই সংশয়ে থাকতে হবে।

ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ডিএসইর নতুন ভবন বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। টাওয়ারের কারণে অবচয় ও পরিচালন ব্যয় বাবদ বছরে প্রায় ৬০ কোটি টাকা বেশি ব্যয় হবে। তবে লেনদেন হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হলে ও সব ভাড়াটিয়া ভবনটি ব্যবহার শুরু  করলে হয়তো ব্রেক ইভেনে আসতে পারে। ভবনটির নির্মাণ ব্যয় বেশি হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত