নিউজিল্যান্ডের চলমান ক্রিকেট সিরিজের সঙ্গে রাগবি বিশ্বকাপকে টেনে আনা যায় সহজেই। জাপানে সদ্য শেষ হওয়া টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে লড়েছিল নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের প্রতিশোধ রাগবির সেমিফাইনালে নিতে চেয়েছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু হেরে যায় তারা। পুরো নিউজিল্যান্ড চলে যায় বিমর্ষতার অতলে। কারণ দেশটিতে ক্রিকেটের চেয়েও জনপ্রিয় রাগবি। আবার তাদের হারিয়ে ফাইনালে ওঠা ইংল্যান্ড হেরে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে। তৃতীয় শিরোপা নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সর্বোচ্চ শিরোপা জয়ের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তার একদিন পর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সাফল্য এসেছে। ইংল্যান্ডের কাছে প্রথম ম্যাচে হেরে যায় নিউজিল্যান্ড। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। তাই ১-১ সমতা ফিরেছে ৫ ম্যাচের সিরিজে। ওয়েলিংটনে আগের ম্যাচের মতো আগেই ব্যাট করতে নেমেছিল কিউইরা। ৮ উইকেটে ১৭৬ রানের বড় স্কোর দাঁড় করায়। জবাবে ১৫৫ রানে অলআউট হয়ে ২১ রানে হারে ইংলিশরা।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১৫৩ রান করেছিল নিউজিল্যান্ড। জবাবে ১৫৪ রান করে জিতে যায় ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটিং পারফরম্যান্সে উন্নতি করেছে স্বাগতিকরা। আগের ম্যাচের চেয়ে আরও ২৩ রান বেশি করে কঠিন লক্ষ্য দাঁড় করায় তারা। নিউজিল্যান্ড উন্নতি করলেও ইংল্যান্ড আগের অবস্থানেই থেকে গেছে। গতবার করেছিল ১৫৪ আর এই ম্যাচে ১৫৫।
টানা দ্বিতীয় ম্যাচের মতো কিউই ব্যাটসম্যানদের কেউই বড় ইনিংস করতে পারেনি। জিমি নিশাম ও মার্টিন গাপটিল দুটি ঝড়ো ইনিংস খেলেন। গাপটিল ২৮ বলে ৪১ ও নিশাম ২২ বলে ৪২ করেন। এছাড়া কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ১২ বলে ২৮ ও রস টেইলর ২৪ বলে ২৮ করেন। আগের ম্যাচে ২ উইকেট নেওয়া ক্রিস জর্ডান ২৩ রানে ৩ উইকেট নেন।
তারকা ক্রিকেটারহীন ইংল্যান্ডের আসল রূপ দেখা গেছে এই ম্যাচ। জস বাটলার, বেন স্টোকস, জো রুট, জেসন রয়দের ছাড়া তাদের দাঁড়াতে আরও সময় লাগবে সেটা স্পষ্ট। আগের ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি করা জেমস ভিন্স এই ম্যাচে ব্যর্থ। ডাভিড মালান ২৯ বলে ৩৯, অধিনায়ক মরগ্যান ১৭ বলে ৩২ ও নিজের দিকে ক্রিস জর্ডান ১৯ বলে ৩৬ করেন।
অস্ট্রেলিয়ার হতাশা : এদিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিশ্চিত জয়ের ম্যাচে ‘নো রেজাল্ট’-এর হতাশায় পুড়তে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়াকে। সিডনিতে বৃষ্টিবিঘিœত সিরিজের প্রথম ম্যাচ কমিয়ে আনা হয় ১৫ ওভারে। তাতে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে মাত্র ১০৭ করে পাকিস্তান। নেতৃত্বের অভিষেক ৩৮ বলে ৫৯ রান দিয়ে উদযাপন করেন বাবর আজম। এছাড়া রিজওয়ান ৩১ করেন। জবাবে মাত্র ৩ ওভারেই বিনা উইকেটে ৪১ তুলে ফেলে স্বাগতিকরা। ১৬ বলে অ্যারন ফিঞ্চ করেন ৩৭। এই পর্যায়ে বৃষ্টি শুরু হলে আর এগোয়নি খেলা।
আর ১১ বল খেলা হলেই ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মে ফয়সালা হতো খেলার। যে অবস্থায় ছিল অস্ট্রেলিয়া, তাতে তাদেরই জেতার কথা। কিন্তু ২০ মিনিটের বিরতির জন্য ভুগতে হয় অজিদের। আর এই কারণেই ক্ষুব্ধ অজি অধিনায়ক তোপ দেগেছেন নিয়মের বিরুদ্ধে। অ্যারন ফিঞ্চের কথায়, ‘দুই ইনিংসের মাঝে ২০ মিনিটের বিরতি হতাশাজনক। কয়েক ওভার বৃষ্টিতে হারানোর পরও ২০ মিনিটের বিরতি বিরক্তিকর। কয়েক ওভার নষ্ট হওয়ার পরও এই বিরতির কোনো মানে নেই। তবে এটা নিয়মের অঙ্গ। প্রকৃতিও তো নিয়ন্ত্রণের বাইরে।’
