গাজীপুরে গৃহবধূ হত্যা স্বামীকে কুপিয়ে জখম

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:২৭ এএম

গাজীপুরে নিজ শয়নকক্ষে রিনা আক্তার (৪৫) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা ও হত্যার ঘটনা দেখে ফেলায় স্বামী সিদ্দিক ব্যাপারীকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল রবিবার সকালে গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন বিলাশপুর নিয়ামত সড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্বামীকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভার্তি করা হয়েছে।

আহত সিদ্দিক ব্যাপারী বলেন, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তাদের নির্মাণাধীন ভবনের চারতলায় পানি দিয়ে নিচের তলায় কক্ষে ঢুকছিলেন। এ সময় তার বড় ভাইয়ের ছেলে হোসেন ও তার দুই বন্ধু মিলে রিনাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ও বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করছিল। এ সময় তিনি চিৎকার শুরু করলে হোসেন ও তার বন্ধুরা তাকে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। একপর্যায়ে তাকে ছুরি দিয়ে গলা ও পেটে আঘাত করে পালিয়ে যায়। 

জিএমপি সদর থানার পরিদর্শক শেখ মো. মিজানুর রহমান জানান, রিনা-সিদ্দিক দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর মহানগরের নিয়ামত সড়ক এলাকায় নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন। গত শনিবার রাতে তারা দুজনই রাতের খাবার সেরে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে উঠে স্বামী সিদ্দিক ঘরে টাইলস লাগানো দেয়ালে পানি দিতে যান। এ সময় দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে রিনাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ও নাকে-মুখে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় দেখে ফেলায় তারা সিদ্দিককে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। শেখ মো. মিজানুর রহমান আরও জানান, রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কেউ মামলা বা অভিযোগ দেয়নি।

নিহতের ছোট বোন মনিতারা বেগম জানান, সিদ্দিকের বড় ভাইয়ের ছেলে মো. হোসেন ঢাকার আশুলিয়ায় থেকে একটি স্কুলে নবম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। গত শনিবার হোসেন তার আরও দুই বন্ধুকে নিয়ে রিনাদের বাসায় ওঠে। তারা রাতের খাবার সেরে ওই বাসায় একটি কক্ষে শুয়ে পড়ে। সকালে একপর্যায়ে তারা সিদ্দিকের ছেলে দেলোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রীকে ওই ভবনের একই তলার অপর কক্ষে বাইরে থেকে আটকে রাখে। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার বাবার ডাক-চিৎকার শুনে দেলোয়ার ও তার স্ত্রী হেনা বেগমের ঘুম ভেঙে যায়। পরে ঘর থেকে বেরোতে চেষ্টা করলে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ বুঝতে পেরে চিৎকার শুরু করে। এ সময় প্রতিবেশীরা গিয়ে সিদ্দিককে রক্তাক্ত অবস্থায় এবং ঘরে রিনার লাশ পড়ে থাকতে দেখে। পরে তাদের উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে হোসেন ও তার বন্ধুরা পলাতক রয়েছে।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক প্রণয় ভূষণ দাস জানান, রিনাকে মৃত ও সিদ্দিককে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। সিদ্দিকের গলায় ও পেটে ধারালো অস্ত্রের জখম অবস্থায় সিদ্দিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত