বিক্রিচাপ সামাল দিতে না পেরে গতকাল সোমবার লেনদেনের শুরু থেকেই সূচকের নিম্নমুখী ধারা ছিল, যা শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। যদিও পতন থামাতে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবিসহ শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজ চেষ্টা চালায়। তবে বিদেশিদের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির চাপ সূচকের পতন ত্বরান্বিত করে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৬৮ শতাংশ শেয়ারের দরপতনে প্রধান মূল্যসূচকটি হারিয়েছে ৩৩ দশমিক ৭২ পয়েন্ট। ফলে ডিএসইএক্স নেমে এসেছে ৪৬৭৮ পয়েন্টে, যা ২০১৬ সালের ১৬ নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন।
গতকাল পাট, ট্যানারি ও সাধারণ বীমা ছাড়া সব খাতই বাজার মূলধন হারিয়েছে। সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৮ শতাংশ দর হারিয়েছে কাগজ খাত। এছাড়া বস্ত্র খাত হারিয়েছে ২ দশমিক ১ শতাংশ বাজার মূলধন। এর বাইরে সিরামিক, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ ও অবকাশ, বিবিধ, খাদ্য ও অনুষঙ্গ, সিমেন্ট, সেবা ও নির্মাণ খাত ১ থেকে ১ দশমিক ৮ শতাংশ দর হারিয়েছে। সূচকে প্রভাব বিস্তারকারী ব্যাংক, জ¦ালানি, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ফার্মাসিউটিক্যালস ও টেলিযোগাযোগ খাতও দর হারিয়েছে।
লেনদেনের শুরুতে সূচক পতনের আভাস পেয়ে আইসিবি সিকিউরিটিজ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে শেয়ার কিনে। প্রতিষ্ঠানটি ৫ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রির বিপরীতে ১৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকার শেয়ার কিনে। এতে আইসিবি সিকিউরিটিজের নিট শেয়ার ক্রয় দাঁড়ায় ৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এছাড়া ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ, ইবিএল সিকিউরিটিজ, ইউনাইটেড ফিন্যান্সিয়াল ট্রেডিং কোম্পানি, রয়েল ক্যাপিটাল উল্লেখযোগ্য পরিমাণের শেয়ার ক্রয় করে। তবে সিটি ব্রোকারেজ, ইউসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, আইডিএলসি ও শান্তা সিকিউরিটিজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আসা বিক্রিচাপ সামাল দিতে না পারায় বেশিরভাগ শেয়ার দর হারিয়ে সূচক কমেছে।
এদিকে গতকাল বেশিরভাগ শেয়ার দর হারানোর পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমে গেছে। গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ২৬৯ কোটি টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ কম। মূলত প্রকৌশল, বস্ত্র, সাধারণ বীমা ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতের শেয়ারে কেনাবেচা কমে যাওয়ায় স্টক এক্সচেঞ্জটির লেনদেন তলানিতে নেমে আসে।
গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া ৩৫৪টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দর বেড়েছে ৭৮টির, কমেছে ২৪২টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৩৪টির।
