ফরাসি গিটারিস্ট তিব্যো কোভাঁকে তার দেশে বলা হয় ধ্রুপদি গিটারের মহারথী। এই গিটার জাদুকর এবার সুরের মূর্ছনায় মাতালেন ঢাকার দর্শকদের। ঢাকার আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের আয়োজনে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেগুনবাগিচার জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় তার একক গিটার কনসার্ট।
কেবল গিটার বাজিয়েই এরই মধ্যে ১৩টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতেছেন এই শিল্পী। টানা ১৫ বছর ধরে দেশে দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি, নানা জাতির সংগীতপ্রেমীকে বাজিয়ে শোনাচ্ছেন তার সুরের জাদুকরী ছন্দ। ইতিমধ্যে ১২০টি দেশে প্রায় এক হাজার একক পরিবেশনায় অংশ নিয়েছেন তিনি। যেসব বিখ্যাত জায়গায় তিনি বাজিয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কারনেজি মিলনায়তন, মস্কো চাইকোভস্কি মিলনায়তন, সাংহাই কনসার্ট মিলনায়তন, লন্ডনের রানি এলিজাবেথ মিলনায়তন। এবার বাজালেন ঢাকার দর্শকের সামনে।
নাট্যশালা মিলনায়তনে কোঁভা তার সংগীত সন্ধ্যার শুরুটা করেন মালোরকা ও কাডিজ নামের দুটো পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। তখন তাকে সাদামাটা এক গিটার বাদকই মনে হলো। এরপর তৃতীয় পরিবেশনা 'বুয়েনস'র সময় নিজেকে মেলে ধরলেন একেবারে অন্যরূপে। ক্ল্যাসিক্যাল গিটারের সঙ্গে ল্যাটিন আমেরিকার সুর মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল মিলনায়তনজুড়ে। পরের গান রিওতে ব্রাজিলিয়ান রিদম ও মেলোডির ছড়াছড়ি। এরপর ওয়েস্টার্ন ক্ল্যাসিক্যাল গিটারের সঙ্গে ধরা দিল জাপানি নিজস্ব সুর।
পরবর্তী পরিবেশনা ‘বার্লিন’ এ ক্ল্যাসিক্যাল গিটারের সঙ্গে ছিল বিটনির্ভর পপ গানের মিশ্রণ। 'ক্যালকাটা’ গানটিতে তিনি ওয়েস্টার্ন ক্লাসিক্যালের সঙ্গে জুড়ে দিলেন ভারতীয় সংগীতের রাগ-রাগিণীর সুর। এরপর বাজিয়ে শোনান ‘ইস্তান্বুল’। এবার ক্ল্যাসিক্যাল গিটারে ভেসে বেড়ালো মরুভূমির সংগীতের মূর্ছনা। এভাবেই ঢাকার মঞ্চে ধ্রুপদি গিটারে তুলে ধরলেন বিশ্বের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য।
আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশের ফরাসি দূতাবাস, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, অরিক্স বাংলাদেশ এবং গন্ধর্বপুর জল শোধনাগার এসএনসি। অনুষ্ঠানটি ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত।
