সারা দেশে ৬৮টি কারাগারে ৪০ হাজার ৬৬৪ ধারণ ক্ষমতার বিপরীতে কারাগারগুলোতে বন্দি রয়েছেন (২৭ আগস্ট পর্যন্ত) ৮৬ হাজার ৯৯৮ জন। এই বন্দিদের চিকিৎসাসেবা দিতে পদ রয়েছে ১৪১টি। কিন্তু চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন মাত্র ১০ জন চিকিৎসক! কারা অধিদপ্তরের পক্ষে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করা এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে
জানানো হয়েছে, গত বছরের জানুয়ারিতে ২০ জন চিকিৎসককে কারাগারের হাসপাতালগুলোতে পদায়ন করা হলেও মাত্র চারজন যোগ দিয়েছেন। ১৬ জন এখনো যোগ দেননি। এই ১৬ জন কেন কাজে যোগ দেননি সেটি আগামী ১১ নভেম্বরের (সোমবার) মধ্যে আদালতকে জানাতে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই দিন হাইকোর্ট এ সংক্রান্তে পরবর্তী আদেশ দেবে।
সারা দেশের কারাগারগুলোতে মানবিক দিক বিবেচনা করে বন্দিদের চিকিৎসায় পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে গত ১৮ ফেব্রয়ারি হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেছিলেন আইনজীবী জে আর খাঁন রবিন। শুনানি নিয়ে গত ২৩ জুন হাইকোর্ট এক আদেশে দেশের সকল কারাগারে বন্দি সংখ্যা, বন্দিদের ধারণ ক্ষমতা, চিকিৎসকের সংখ্যা ও চিকিৎসকদের শূন্য পদের তালিকা প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি রুল জারি করে হাইকোর্ট।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশার পক্ষে ডেপুটি জেলার মো. মুমিনুল ইসলাম এ প্রতিবেদন জমা দেন। আদালতে রিটকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও রিটকারী আইনজীবী জে আর খাঁন রবিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। কারা অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কারা চিকিসকের অনুমোদিত পদ ১৪১টি। কিন্তু এর বিপরীতে রয়েছেন ১০ জন চিকিৎসক। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে প্রেষণে কারা চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। সরাসরি বা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিধান নেই। এছাড়া ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি ২০ জন চিকিৎসককে কারাগারাগুলোতে পদায়ন করা হয়। তবে, এর মধ্যে চারজন কাজে যোগ দিলেও বাকি ১৬ জন অদ্যাবধি যোগ দেননি।
রিটকারী আইনজীবী জে আর খাঁন রবিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কারা কর্তৃপক্ষ এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছে। হাইকোর্ট যে রুল দিয়েছিল, সংশ্লিষ্টরা রুলের জবাবও দিয়েছেন। আদালত জানতে চেয়েছে পদায়ন পাওয়া ১৬ জন চিকিৎসক কেন কাজে যোগ দেননি। এছাড়া এ বিষয়ে আরেকটি রিট আবেদন বিচারাধীন রয়েছে। দুটি আবেদনের বিষয়বস্তু আদালত এক সঙ্গে শুনবে বলে আমাদের জানিয়েছে। আগামী ১১ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।’
