পৃথিবী কেমন? কেমন তার আকার? সমতল না বাঁকানো? আপাতদৃষ্টিতে খুব সহজ প্রশ্ন মনে হলেও বিজ্ঞানের উষালগ্নে কঠিন এক প্রশ্ন ছিল এটি। অঙ্ক করে বের করতে হয়েছিল পৃথিবী গোলাকার। কারণ পৃথিবীর বাইরে থেকে পৃথিবীর ছবি তুলে তা প্রমাণ করার সামর্থ্য তখনো মানবজাতির তৈরি হয়নি। পৃথিবী যেমন এককালে ধারণার অসীম বিষয় ছিল মহাবিশ্ব মানবজাতির কাছে এখনো সেইরকমই এক বিস্ময়। বলা বাহুল্য, মহাবিশ্বের বাইরে থেকে এর ছবি তোলার সুযোগ তাত্তি¡কভাবে অসম্ভব। তাহলে যে, আমরা জেনে আসছি মহাবিশ্ব অনেকটা সমতল সেটা কি শুধুই কল্পনা বা ধারণা? হ্যাঁ, এটি বৈজ্ঞানিক ধারণা। এবং এটি বের করা হয়েছে অঙ্ক করে। কিন্তু গত রবিবার ন্যাচার অ্যাস্ট্রোনমি নামের একটি সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা বলছে, আমরা মহাবিশ্বকে যেরকম সমতল বলে ভাবি আসলে তা সেরকম না। এটি আসলে বক্রভাবে বদ্ধ। কিছু মহাজাগতিক তথ্য-উপাত্ত নতুন করে বিশ্লেষণ করে একদল বিজ্ঞানী এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তারা মনে করছেন, বক্রবদ্ধ মহাবিশ্বের যে সিদ্ধান্ত তারা দিচ্ছেন তা ৯৯ শতভাগ নিশ্চিত। ন্যাচার অ্যাস্ট্রোনমিতে প্রকাশিত নিবন্ধের লেখক তিন পদার্থবিজ্ঞানী। ইতালির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আলেসান্দ্রো মেলচিওরি, ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এলিওনোরা ভ্যালেন্তিনো এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের যোসেফ সিল্ক। মেলচিওরি বলছেন, প্ল্যাংক মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সুপ্রাচীন আলোর যে তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করেছে তাতে সুস্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে মহাবিশ্ব বদ্ধই হবে। তার দাবি সত্য হলে মহাবিশ্বের আকার নিয়ে এতদিনকার ধারণায় বিরাট পরিবর্তন আসবে। তবে একই সংস্থার গত বছরের তথ্য বিশ্লেষণ কিন্তু অন্য তথ্য দিচ্ছিল। সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সৃষ্টিতত্ত¡বিদ অ্যান্টনি লুইস সেই গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি মেলচিওরিদের দাবিকে আমলে নিচ্ছেন না। তিনি একে পরিসংখ্যানের খেলা বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। তবে জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সৃষ্টিতত্তাবিদ
গ্রায়েম এডিসন বলছেন, একটা পর্যায়ে এরকম অবস্থা যে আছে তা নিয়ে তো কেউ তর্ক করতে যাচ্ছে না। কেবল ব্যাখ্যা করার সময় ভিন্নমত তৈরি হচ্ছে। মহাবিশ্ব যদি সমতল হয় তবে পাশাপাশি দুটি আলোক রশ্মি আজীবন সমান্তরালভাবেই থাকবে। আর বদ্ধ হলে একপর্যায়ে তারা উৎসমুখে ফিরে আসবে বা একে অপরকে অতিক্রম করবে। মহাবিশ্বের ঘনত্বের ওপর তা নির্ভর করবে। মহাবিশ্বের জন্ম বিষয়ে প্রধান তত্ত¡ হলো, এর সমতল বিস্তৃতি হয়েছে। এই সহস্রাব্দের শুরুতে করা সব পর্যবেক্ষণ বলছে, এটি আকারে মোটামুটি সমতলের কাছাকাছি। নতুন পর্যবেক্ষণে মহাবিশ্বকে আগের চেয়ে বেশি ঘন বলে মনে হচ্ছে। জন্মের পর থেকে ১৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন বছর ধরে প্রাচীন আলোকরশ্মি পৃথিবীতে আসার পথে কতখানি বাঁক খেল তা থেকেই এই ঘনত্ব বের করা হয়েছে। আলোর স্থানিক ধরন আপনাকে বলে দেবে এর কতখানি সরল বা বাঁকা। তবে এখন পর্যন্ত সৃষ্টিতত্ত¡বিদরা নতুন সমীক্ষাকে পরিসংখ্যানগত বিষয় বলেই মনে করছেন।
