অত্যাচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে বিএনপির অনেক নেতাকে বিদেশের মাটিতে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। তাদের মতো বিএনপির অনেক নেতা জীবন সায়াহ্নে এসে কেউ স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করতে পারেননি বলে আক্ষেপ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী তরিকুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে
আয়োজিত এক স্মরণসভায় সভাপতির বক্তব্য দেওয়ার সময় এই আক্ষেপ করেন।
এ সময় তিনি সদ্যপ্রয়াত দলটির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার প্রসঙ্গে বলেন, খোকার মতো একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজ দেশের মাটিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকারের নানামুখী অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার হয়ে ধুঁকে ধুঁকে বিদেশের মাটিতে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। এভাবে বিএনপির অনেক নেতা জীবন সায়াহ্নে এসে কেউ স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করতে পারেননি।
মির্জা ফখরুল বলেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম। আজীবন সংগ্রামী মানুষটি শেষ জীবনে অসুস্থ শরীর নিয়ে একবার ঢাকায়, আরেকবার যশোরের আদালতে হাজিরা দিতে ছুটেছেন সরকারের দায়ের করা মামলায়। এভাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, আ স ম হান্নান শাহ’র মতো বিএনপির অনেক নেতা অত্যাচার, নির্যাতিত ও নিপীড়িনের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। জীবন সায়াহ্নে এসে তারা কেউ স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করতে পারেননি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজ সমস্ত দেশে যে অত্যাচার-নির্যাতন ছড়িয়ে পড়েছে, অনেক সময় মনে হয় তা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের নির্যাতনকেও ছাড়িয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সারা দেশে বিএনপির ২৬ লাখ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে গুম করে দিয়েছে, হাজারের অধিক নেতাকর্মী অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আজ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। এই গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য, সরকারবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে ধ্বংস করতে তারা সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছে।’
মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বেগম সেলিমা রহমান, তরিকুল ইসলামের স্ত্রী প্রফেসর নার্গিস বেগম, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ্ বুলু, মোহাম্মদ শাজাহান প্রমুখ।
