যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলকে ইকবাল মাহমুদ

শুধু চুনোপুঁটি নয় রাঘববোয়ালদের ধরছে দুদক

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ০২:৪০ এএম

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শুধু চুনোপুঁটি নয়, রাঘববোয়ালদেরও ধরছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদলকে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘অনেক উচ্চপদস্থ ব্যক্তিকে দুদকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’ গতকাল মঙ্গলবার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান

 কার্যালয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। দুদকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে।

এদিকে গতকাল দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলওয়ার বখত সাংবাদিকদের বলেন, ‘ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িতদের তথ্য জানতে যুক্তরাষ্ট্রে চিঠি পাঠানো হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলটি দুদক চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চায়, দুদকের মামলায় ৩০ শতাংশ আসামি খালাস পাওয়ার কারণ কি দুর্বল তদন্ত নাকি দুর্বল প্রসিকিউশন অথবা অন্য কিছু? এ প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনাদের ধারণা হয়তো সবকটিই সত্য। তবে বর্তমানে কমিশন তদন্ত এবং প্রসিকিউশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাপক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। কমিশনের মামলায় সাজার হার একসময় মাত্র ২২ শতাংশে নেমে এসেছিল, যা বর্তমানে প্রায় ৭০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কমিশন দুই শতাধিক মানি লন্ডারিং মামলা করেছে। এর মধ্যে ১৬টি মামলায় বিচারিক আদালতে রায় হয়েছে। প্রতিটি মামলায় আসামিদের সাজা হয়েছে।’

দুদক চেয়ারম্যান প্রথমেই প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত তিন বছরে কমিশনের ১৬৪ জন কর্মকর্তাকে অনুসন্ধান, তদন্ত ও প্রসিকিউশনের ওপর প্রশিক্ষণ দিয়ে কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রশংসনীয় ভ‚মিকা রাখছে।’ তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআইয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য অভিপ্রায় ব্যক্ত করে চিঠি দিয়েছে। আমরা আশা করি, এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হবে।’ যোগ করে বলেন, ‘এফবিআইয়ের দক্ষ ও চৌকস কর্মকর্তারা বাংলাদেশে এসে দুদকের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিতে পারেন।’

ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘মানি লন্ডারিং, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, অপরাধীদের গতিবিধি, দুর্নীতির ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিরোধ করার জন্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে চায় কমিশন। এ ক্ষেত্রে আপনাদের সহযোগিতার প্রয়োজন আছে। বিশেষ করে উন্নতমানের ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনে আপনারা সহযোগিতা করতে পারেন।’ জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের আবাসিক আইন উপদেষ্টা এরিক ওপাঙ্গার সঙ্গে স্টেট ডিপার্টমেন্টের দুই কর্মকর্তা বৈঠকে অংশ নেন।

যুক্তরাষ্ট্রে চিঠি পাঠানো হবে : এদিকে ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্য জানতে প্রয়োজনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলওয়ার বখত। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল দুদক চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

দুদক সচিব আরও বলেন, এফবিআইয়ের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বিষয়ে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ক্যাসিনোর শহর লাস ভেগাসে খেলতে যাওয়া বাংলাদেশের ক্যাসিনো জুয়াড়িদের সম্পর্কে তথ্য জানতে প্রয়োজনে চিঠি পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে থাকা দুর্নীতিবাজদের তথ্য জানতে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা অনুরোধ (এমএলএআর) পাঠানো হতে পারে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে চিঠি পাঠিয়েছিল দুদক। দেশটির দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা করাপ্ট প্র্যাকটিসেস ব্যুরোর পরিচালক বরাবর পাঠানো চিঠিতে সিঙ্গাপুরের মেরিনা বেসহ ক্যাসিনোগুলোতে জুয়া খেলতে যাওয়া বাংলাদেশিদের তথ্য চাওয়া হয়।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত