নস্টালজিক বিগ বি

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ১২:০২ এএম

বলিউডের শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন। অভিনয়ে ৫০ বছর পার করেছেন। এই লম্বা সময়ে কাজ করেছেন অনেকের সঙ্গে। সঙ্গে সম্পর্ক সহকর্মীর গন্ডি ছাপিয়ে পেয়েছে বন্ধুত্বের তকমা। তাদের অনেকেই আজ জীবিত না থাকলেও আছেন বিগ  বির মনকুঠুরিতে। মাঝেমধ্যেই  প্রিয় সহকর্মীদের কথা মনে পড়ে তার।
চিরসবুজ অ্যাংরি ইয়ং ম্যান ভোগেন

নস্টালজিয়ায়। অতুলনীয় কয়েকজন সহকর্মীকে  নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি। তুলে ধরেছেন ফারহানা সামি

ওয়াহিদা রেহমান

চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশের অনেক আগে থেকেই ওয়াহিদাজি আমার কাছে ছিলেন শ্রদ্ধার পাত্রী। অভিনয়ে আমার আদর্শ ছিলেন তিনি ও দিলীপ কুমার। তাই ক্যারিয়ারের শুরুতে ‘রেশমা অর শেরা’ সিনেমায় তার সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে আমি ভ্যাগ্যকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। নবাগত ছিলাম আমি। ওয়াহিদাজি ও তার বড় বোনের আন্তরিকতায় নিজেকে নবাগত মনে হয়নি। মনে হয়েছিল আমি তাদের পরিবারেরই অংশ। এখনো তার সঙ্গে দেখা হলে আড্ডা হয়। আদর্শ ভারতীয় নারীর প্রতীক ওয়াহিদাজি। তিনি সব সময় আমাকে উৎসাহ জুগিয়েছেন, পরামর্শ দিয়েছেন।

মেহমুদ

মেহমুদ ভাইয়ের ভাই আন্নু (আনোয়ার আলি) ও আমি কাজ করি আমার প্রথম সিনেমা ‘সাত হিন্দুস্তানি’তে। তখন থেকেই খুব ভালো বন্ধু আমরা। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে এক বন্ধুর পরিবারের সঙ্গে মেরিন ড্রাইভে থাকতাম আমি। আর আন্নু আন্ধেরিতে ভাই মেহমুদের সঙ্গে। দুজন দুদিকে থাকায় দেখা-সাক্ষাৎ কমে গিয়েছিল। তখন আন্নুই আমাকে তাদের বাড়িতে থাকার আমন্ত্রণ জানায়। তাদের সঙ্গে থাকাকালে কখনোই নিজেকে পরিবারের বাইরের কেউ মনে হয়নি। যখন ইন্ডাস্ট্রিতে আমাকে সবাই প্রত্যাখ্যান করছিল, তখনো মেহমুদ ভাই আমাকে নিয়ে বড় কিছু আশা করতেন। ফিল্মবাজারে অনেক সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও তিনি আমাকে ‘বম্বে টু গোয়া’ সিনেমার মূল চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ভারতের অন্যতম মেধাবী অভিনেতা তিনি। তার মতো কমেডি সেন্স এই ফিল্মস ইন্ডাস্ট্রিতে আর কারও নেই বলে মনে হয় আমার। ঈশ্বরপ্রদত্ত মেধা ছিল মেহমুদ ভাইয়ের। আমাকে সফল দেখে খুব খুশি ছিলেন তিনি।

সঞ্জীব কুমার

বলিউডে সঞ্জীব কুমার পরিচিত ছিলেন হরিভাই নামে। আমরা একসঙ্গে অনেক চলচ্চিত্রে কাজ করেছি। একজন প্রতিভাবান অভিনেতা হিসেবে তার কাছ থেকে শিখেছি অনেক কিছু। সেই সঙ্গে তার সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোও অবিস্মরণীয়। জীবনকে ভালোবাসতেন তিনি। নিজের ইচ্ছেমতো জীবন উপভোগ করতেন। আমার স্ত্রী জয়ার ভীষণ কাছের মানুষ ছিলেন। জয়াকে স্নেহ করতেন ছোট বোনের মতো। খাবারের প্রতি দুর্বলতা ছিল তার।

অশোক কুমার

ইন্ডাস্ট্রির সবার প্রিয় দাদামণি। সব সময়ই মুখে হাসি লেগে থাকত। ৮০ বছর বয়সেও পুরো প্রস্তুতি নিয়ে শ্যুটিংয়ে আসতেন। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ছিলেন। সহকর্মীদের বিপদে-আপদে ওষুধপত্র দিয়ে সাহায্য করতেন অশোক কুমার। ভীষণ প্রাণবন্ত, উচ্ছল ছিলেন। তার রসাত্মবোধে মেতে থাকত শ্যুটিং সেট।

নূতন

ওয়াহিদাজির মতো নূতনজিও আদর্শ ভারতীয় নারীর প্রতীক। তার পেশাদারিত্ব ছিল প্রবল। নূতনজির সময়জ্ঞান ও প্রস্তুতি যেকোনো সহকর্মীকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে পারে। আমি তার সঙ্গে ‘সওদাগর’ সিনেমায় কাজ করেছি। এই সিনেমায় একটা শট নেওয়ার কথা ছিল খুব ভোরে। সবার আগে মেকআপ নিয়ে তৈরি হয়েছিলেন নূতনজি। খুবই আবেগময়ী অভিনেত্রী, নম্র ও বিনয়ী। তাকে দেখে যে কেউ শ্রদ্ধা করতে বাধ্য হবে। ক্যারিয়ারের শেষ দিকে মঞ্চে গান গাইতেন নূতনজি। একবার দিল্লির কাছে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়েছিলাম। সেখানে তিনিও ছিলেন। মঞ্চে ওঠার আগে তিনি আমাকে তার সঙ্গে আসতে বললেন। তাকে দর্শকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে বললেন। এটা খুবই আনন্দের মুহূর্ত ছিল আমার জন্য।

আমজাদ খান

বেঙ্গালুরুতে ‘শোলে’ সিনেমায় অভিনয়ের সময় পরিচয় আমজাদ খানের সঙ্গে। প্রথম দিন থেকেই ‘শটি’ ডাকতেন আমাকে। সেদিন থেকে আমজাদের শেষ দিনটি পর্যন্ত বন্ধুত্ব ছিল আমাদের। ভীষণ ভালো সময় কাটিয়েছি আমরা। বিপদে-আপদে সব সময় একে অপরের পাশে ছিলাম। একদিন সকালে ফোন পেলাম। ঘুমের মধ্যেই না ফেরার দেশে চলে গেছে আমজাদ। বিশ্বাস করতে পারছিলাম না এমন প্রাণবন্ত একজন আর আমাদের মাঝে নেই। সেদিন একটা বড় সম্পদ হারিয়ে গিয়েছিল, হারিয়ে গিয়েছিল ভীষণ ভালো বন্ধু।

সুনীল দত্ত

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন দত্ত সাব ও নার্গিসজি (তারকা দম্পতি সুনীল দত্ত ও নার্গিস)। আমার জন্য তাদের দরজা ছিল সব সময় খোলা। যখনই প্রয়োজন হতো আমি তাদের কাছে পরামর্শ নিতে যেতাম। সুনীল দত্তের সঙ্গে অনেক সিনেমাতেই কাজ করেছি। খুবই সাহসী ছিলেন। নেতৃত্ব দিতেন সামনে থেকে। তার আর্মি জেনারেল হওয়ার একটা গোপন ইচ্ছে ছিল। তাকে আমি শেষবারের মতো দেখি ব্রিচ ক্যান্ডি হসপিটালের আইসিইউতে। সুনীল দত্তের আকস্মিক মৃত্যু খুবই পীড়াদায়ক। তবে তিনি ‘মাদার ইন্ডিয়া’ সিনেমার বিখ্যাত বিরজু চরিত্রে বেঁচে আছেন বলে আমার বিশ্বাস। ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রথম অ্যাংরি ইয়ং ম্যান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত