৪০টি দেশের প্রবাসীদের নিবন্ধনসহ দেশের নতুন চার কোটি ভোটারকে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) স্মার্টকার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ছাড়া ১০-১৭ বছর বয়সী আরও চার কোটি নাগরিককে অস্থায়ী এনআইডি দেওয়া হবে। এ কার্যক্রমের সক্ষমতা ও অবকাঠামোও উন্নয়ন করা হবে। চলতি বছর থেকে ২০২৪ সালের জুন নাগাদ এসব কাজ বাস্তবায়নের জন্য ২ হাজার ৫৫ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব দিয়েছে ইসি। তবে এই প্রকল্প প্রস্তাবে বিভিন্ন খাতের ব্যয় কমানোর পর তা অনুমোদন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। ইসি সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত নাগরিকের সংখ্যা ১০ কোটি ৪৩ লাখ। তবে সবাইকে এনআইডি দেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য যোগ্য ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ ও ডাটাবেজ হালনাগাদ করা প্রয়োজন। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় সেই উদ্যোগই নেওয়া হবে। পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো এ প্রস্তাবের ওপর সম্প্রতি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রস্তাবিত প্রকল্পে বিভিন্ন খরচ খাতে ব্যয় কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে এলে প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোন পাবে।
ডিপিপিতে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ ও জাতীয় পরিচিতি সেবা দিতে টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২ হাজার ৫৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা প্রয়োজন। প্রকল্পের আওতায় অনিবন্ধিত চার কোটি নাগরিককে (নিরাপদ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন) স্মার্টকার্ড দেওয়া হবে। একই সঙ্গে চলতি বছরের বাজেটে অপ্রাপ্ত বয়স্কদেরও নাগরিক সুবিধা দিতে পরিচয়পত্র দেওয়ার ঘোষণা দেয় সরকার। এরই অংশ হিসেবে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী চার কোটি নাগরিক অস্থায়ী এনআইডি পাবে। তবে ৪০ দেশের কতজন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধিত হবে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি প্রস্তাবনায়। বিষয়টি সুস্পষ্ট করার পরামর্শ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।
প্রকল্পের আওতায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য যোগ্য ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ ও ডাটাবেজ হালনাগাদ করা হবে। নিবন্ধনযোগ্য নাগরিকের ১০ আঙুলের ছাপ নেওয়া হবে, বায়োমেট্রিক ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে দ্বৈত ভোটার শনাক্ত, ভোটার স্থানান্তর বা মৃত ভোটার বাতিল, সংরক্ষিত পদ্ধতিতে ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও মুদ্রণ ও এনআইডি সার্ভিস ডাটাবেজের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। এ ছাড়া নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে প্রায় পাঁচ কোটি ফরম স্ক্যান করে সংরক্ষণ করা হবে।
এ বিষয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্পটির মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা যাবে। দেশে নিবন্ধিত ভোটারের সবাইকে স্মার্টকার্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া অপ্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিকদেরও অস্থায়ী এনআইডি দেওয়া হবে প্রকল্পেরও আওতায়। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। পিইসি সভায় যেসব বিষয় নিয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তা সংশোধন করা হবে। এরপরই প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে।’
পরিকল্পনা কমিশনের পিইসি সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন খাতের ব্যয় কমিয়ে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চ সম্মানীতে ১৫ পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিশন এসব পরামর্শকের মধ্যে কমপক্ষে পাঁচজন পরামর্শকের প্রয়োজন নেই বলে মনে করে। তাদের মতে, এসব পরামর্শকের কাজ ইসির বিদ্যমান লোকবল দিয়েই করানো সম্ভব।
পিইসি সভায় জনবল কমিটির সুপারিশের আলোকে ডিপিপি পুনর্গঠনের কথা বলা হয়। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, অর্থ বিভাগের জনবল কমিটির আলোকে শুধু বেতন-ভাতা খাতে ব্যয় পরিবর্তন হওয়ার কথা। কিন্তু পুনর্গঠিত ডিপিপি পর্যালোচনা করে দেখা যায় পাঁচ আইটেমের ব্যয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। এর মধ্যে পেট্রল-ওয়েল-লুব্রিকেন্ট খাতে ৩ কোটি টাকা, পরামর্শক সেবায় ৩৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, ডাটাবেজ খাতে ৭৩ কোটি টাকা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সারঞ্জামাদি খাতে ৬৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে আনতে হবে। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবিত এ প্রকল্পে আরও ১০ ধরনের পরামর্শকের প্রয়োজনীয়তা, কর্মকাল ও সম্মানী নির্ধারণের ভিত্তি সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। এগুলোর বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, ‘সব প্রকল্পের বিষয়েই আমরা কঠোর ভারে নজরদারি করছি। বাড়তি ব্যয়ের প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না। আমরা এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে আছি। ভোটার নিবন্ধন প্রকল্প নিয়ে পিইসি সভায় সঠিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এগুলো সংশোধন করা হলে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে।’
