কয়েক বছর আগে সুমনা আক্তারের বিয়ে হয় হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার চরগাঁও গ্রামের সুফি মিয়ার সঙ্গে। শ্বশুর-শাশুড়ি, দেবর, দুই ছেলেমেয়ে ও স্বামী নিয়ে খারাপ চলছিল না তার সংসার। এর মধ্যে পাঁচ বছর আগে হঠাৎ মারা যান সুফি মিয়া। এরপরই বিভীষিকাময় হয়ে উঠতে শুরু করে সুমনা ও তার ছেলেমেয়ের জীবন। ছেলেমেয়ের মুখ চেয়ে দেবর স্বপনের নানা ধরনের অন্যায় দাবি মেনে নিতে হয় তাকে।
এর মধ্যে সবগুলো মুখের খাবার নিশ্চিত করতে দুই মাস আগে সৌদি আরব যান সুমনা। যাওয়ার আগে মেয়ে সুমাইয়া (৭) ও ছেলে জিসানকে (৫) রেখে যান তাদের দাদা-দাদি ও চাচা স্বপনের কাছে। সন্তানদের দেখভালের জন্য স্বপনকে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা, নগদ টাকা ও চাল কিনে দেন। তবে দুই মাস যেতে না যেতেই সুমনার কাছে টাকা চাইতে শুরু করে স্বপন। টাকা দিতে না চাইলে ছেলে জিসানের ওপর চালাত অমানুষিক নির্যাতন। সেই নির্যাতনের ভিডিও ছবি সৌদি প্রবাসী সুমনার কাছে পাঠিয়ে টাকা না দিলে আরও নির্যাতনের হুমকি দিতেন। টাকা দিতে বাধ্য হতেন সুমনা। এর মধ্যে কয়েকদিন আগে জিসানকে নগ্ন করে ঘরের ভেতর উল্টো করে ঝুলিয়ে নির্যাতনের একটি ভিডিও পাঠায় স্বপন।
ভিডিওতে দেখা যায়, বাড়ির একটি কক্ষে জিসান উল্টো করে বাঁধা। হাউমাউ করে কাঁদছে। অন্য দিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে তাকে লাথি মারছেন স্বপন।
ভিডিওটি দেখার পর গত শুক্রবার দেশে ফিরে আসেন সুমনা। নবীগঞ্জ থানায় স্বপনের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের মামলা করেন। ওই মামলায় গতকাল বুধবার স্বপনকে তার শ্বশুরবাড়ি বানিয়াচঙ্গ উপজেলার খাড়াউড়া থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লাহ গতকাল বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বপনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে বুধবার ভোর ৬টায় স্বপনকে তার শ^শুরবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, স্বপন এলাকায় প্রচার করত, ভাই মারা যাওয়ার পরে সুমনার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। মাঝে মধ্যেই ছেলেমেয়ে দুটোকে মারধর করত। তবে বিষয়টি নজরে এলে এলাকাবাসী জিসান ও তার বোনকে নানাবাড়ি পাঠিয়ে দেন। তারা জানান, নিঃসন্তান স্বপনের তিন স্ত্রী রয়েছে।
এদিকে সুমনা দেশ রূপান্তরকে জানান, তিনি সন্তানের ওপর নির্মম অত্যাচারের ভিডিও দেখে সৌদি আরবে তার মালিককে বলে শুক্রবার দেশে ফিরেছেন। তিনি সন্তানের ওপর এই নির্যাতনের বিচার চেয়ে বলেন, পেটের ছেলের ওপর এমন নির্মম নির্যাতনের দৃশ্য দেখে সহ্য করতে পারিনি। নির্যাতনের ভিডিওটি কফিলকে দেখালে তিনি প্লেনের টিকিট কিনে দেন। আমি এই ঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই। বিয়ের প্রসঙ্গে সুমনা বলেন, এটা স্বপনের ফন্দি। তার সঙ্গে আমার কখনো বিয়ে হয়নি।
