পুলিশের ডগ স্কোয়াডে যুক্ত হচ্ছে আরও কুকুর

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ০২:২৩ এএম

বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ডগ স্কোয়াডে কুকুরের সংখ্যা বাড়ছে। অভিযানের সময় বিস্ফোরক উদ্ধারের কাজে লাগাতে সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটে যোগ হয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষিত লেব্রাডর জাতের ১৭টি কুকুর। এছাড়া মাদক, বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের জন্য আরও বেশ কিছু কুকুর সংগ্রহের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তারা জানান, বর্তমানে ডিএমপি, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও র‌্যাবের ডগ স্কোয়াড মিলে মোট ৯৪টি বিদেশি প্রশিক্ষিত কুকুর রয়েছে পুলিশ বাহিনীতে। যেগুলো পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটভিত্তিক স্কোয়াডের সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে অংশ নিয়ে আসছে। বিশেষ করে বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে এসব প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে ভেন্যু সুইপিংয়ের কাজ করানো হয়ে থাকে।

তবে সম্প্রতি শুধুমাত্র বিস্ফোরক উদ্ধার অভিযানের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষিত লেব্রাডর জাতের ১৭টি কুকুর এনেছে সিটিটিসি। এ নিয়ে ডিএমপির ডগ স্কোয়াডে কুকুরের

সংখ্যা দাঁড়াল ৩৫। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের (এসএজি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগে থেকেই সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড রয়েছে। এরা সাধারণত মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে প্রশিক্ষিত। এবার শুধু বিস্ফোরক উদ্ধারে পারদর্শী ১৭টি লেব্রাডর জাতের কুকুর আনা হয়েছে।’

পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, ডিএমপিতে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তার অধীনে একজন পরিদর্শক, এসআই, এএসআই, নায়েক ও কনস্টেবলকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ডগ স্কোয়াড নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এই স্কোয়াডের কুকুরগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য রয়েছেন একজন ভেটেরিনারি কর্মকর্তা। অন্যদিকে র‌্যাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একজন উপ-পরিচালকের অধীনে একজন ডিএডি, এসআই ও এএসআইদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে র‌্যাবের ডগ স্কোয়াড পরিচালনা করা হচ্ছে। সেখানেও কুকুরগুলোর দেখভালের জন্য রয়েছেন একজন ভেটেরিনারি কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে ডিএমপিতে ৩৫টি, এপিবিএনে ৮ এবং র‌্যাবে মোট ৫১টি প্রশিক্ষিত কুকুর রয়েছে। যেগুলোর অধিকাংশই লেব্রাডর রেট্রিভার এবং জার্মান শেফার্ড প্রজাতির। এসব কুকুর বিভিন্ন সময়ে ইংল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস থেকে কেনা হয়েছে। তারা আরও জানান, মাদক, বিস্ফোরকদ্রব্য ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের কাজে এসব ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের পুলিশ বাহিনীতে সর্বপ্রথম ডগ স্কোয়াড গড়ে তোলা হয় ১৯৯৮ সালে। সে সময় ৫টি প্রশিক্ষিত কুকুর (ট্রেইনড ডগ) এবং ২০টি পাপিস ডগ নিয়ে প্রথম ডগ স্কোয়াডটি গঠন করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তী সময়ে ওই ডগ স্কোয়াডটি পুলিশের কাছ থেকে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ডগ স্কোয়াডে কুকুরের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে ব্যবহারের জন্য আরও আগে থেকেই প্রশিক্ষিত কুকুর কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই আলোকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২৭টি কুকুর কেনার লক্ষ্যে চুক্তি সম্পাদন করা হয়, যা সরবরাহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের অধীনে আরও ৩০টি কুকুর কেনার দরপত্র কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত