ব্যাংক খাত এখন সবচেয়ে সমস্যাগ্রস্ত উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, এ খাতে কিছু সংস্কার করতে চাইলেও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে কোনো কোনো ড়্গেত্রে আপস করতে হচ্ছে। সরকারকে সবার মতামত নিয়ে চলতে হয়। তবে এ খাতে সংস্কার হবেই।
গতকাল শনিবার ওয়েস্টিন হোটেলে বাংলাদেশ ইকোনমিস্ট ফোরামের (বিইএফ) চতুর্থ বার্ষিক সম্মেলনে প্রথম পর্বের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনের দুই পর্বে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, পিকেএসএফের চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ প্রমুখ।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, রপ্তানি খাতের সহায়তার জন্য টাকার মান অবমূল্যায়ন নিয়ে কাজ চলছে। পুঁজিবাজার উন্নয়নে আরও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। তবে রাজস্ব ও আর্থিক খাত সংস্কার একবারে সম্ভব নয়। অর্থনীতির গতি পাল্টানোর ঝুঁকি আছে।
পিআরআই চেয়ারম্যান জায়দি সাত্তার বলেন, উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে শ্রমঘন শিল্প দরকার। এজন্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নীতিতে পরিবর্তন দরকার। প্রণোদনা নীতিতেও পরিবর্তন আনতে হবে।
পিআরআই ভাইস চেয়ারম্যান সাদিক আহমেদ বলেন, কয়েক বছর ধরে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২৩ শতাংশের আশপাশে ওঠানামা করছে। এই হার ৩৬ থেকে ৩৯ শতাংশ নিতে হবে। এছাড়া কর জিডিপি অনুপাত ৯ শতাংশ থেকে ১৭ শতাংশে নিতে হবে।
আইএনএম নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে আর্থিক খাত। পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অসুস্থ প্রতিযোগিতায় ঝুঁকির মুখে অর্থনীতি। এই সমস্যার সমাধানে শক্তিশালী শেয়রবাজার, বন্ড মার্কেট এবং সরকারি পর্যায় থেকে নীতিগত সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। সেমিনারে পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা বক্তব্য রাখেন।
