খেলাপি ঋণ ৩ ভাগ করে দেখাবে অর্থ মন্ত্রণালয়

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৯, ১২:৪৬ এএম

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমিয়ে দেখাতে অভিনব কৌশল নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তারই অংশ হিসেবে মোট খেলাপি ঋণকে তিন ভাগ করা হবে। মোট খেলাপি ঋণের মধ্য থেকে মূল ঋণের পরিমাণ বের করে তা খেলাপি ঋণ হিসেবে তুলে ধরা হবে। খেলাপি ঋণের মধ্যে থাকা মূল ঋণের সুদ ও সুদের ওপর আরোপিত সুদ আলাদাভাবে দেখানো হবে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ কম দেখাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার এ প্রসঙ্গে জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংকের বিশেষ নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অডিট ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের মাধ্যমে এই পাঁচটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বিশেস্নষণ করা হবে। খেলাপি ঋণের মধ্যে মূল ঋণের পরিমাণ কত, তা আলাদা করা হবে। আর ঋণের সুদ এবং সুদের ওপর সুদ পৃথক করা হবে। তখন দেখা যাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ অনেক কম।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ব্যাংক খাতে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ বলা হলেও এর মধ্যে মূল ঋণের পরিমাণ অনেক কম। তার মতে, মূল ঋণের পরিমাণ হবে ১২ হাজার কোটি টাকার মতো। বাকিটা এই মূল ঋণের ওপর আরোপিত সুদ এবং সুদের ওপর আরোপিত সুদ।

ব্যাংকাররা জানান, মোট খেলাপি ঋণের কত শতাংশ মূল ঋণ ও কত শতাংশ সুদ তার কোনো হিসাব নেই। তবে সুদের ওপর আরোপিত সুদের পরিমাণ বেশ কম হবে। কারণ হিসেবে তারা বলেন, কোনো ঋণ খেলাপি হওয়ার পর তা ‘সাসপেন্স’ অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। অর্থাৎ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর ওই ঋণের ওপর ব্যাংক নতুন করে কোনো সুদ আরোপ করে না।

রাষ্ট্র মালিকানাধীন সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংকের ঋণ ও অগ্রিমের প্রতিটির বাস্তব অবস্থার বিবরণ প্রণয়ন করতে বিশেষ নিরীক্ষক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সময়ে ব্যাংকের রপ্তানিকারক ও রপ্তানিভিত্তিক বিবরণ, রপ্তানি বিল কেনা, রপ্তানি প্রণোদনা দেওয়া, রপ্তানি ঋণ দেওয়া ও রপ্তানি বাবদ রাজস্ব আয়ের তথ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখবে ফার্মগুলো। ব্যাংকগুলোর মোট খেলাপি ঋণের মধ্যে মূল ঋণের পরিমাণ, খেলাপি ঋণের সুদের পরিমাণ ও খেলাপি ঋণের সুদের ওপর আরোপিত সুদের পরিমাণ পৃথকভাবে উপস্থাপন করতে ওই ফার্মগুলোকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, দেশের ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫৩ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। আর বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ৫১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা।

আ হ ম মুস্তফা কামাল অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে খেলাপি ঋণ কমানোর নানা উদ্যোগের কথা বললেও তা খুব একটা কাজে আসেনি। বরং ‘খেলাপি আর এক টাকাও বাড়বে না’ বলার পরও খেলাপি ঋণ কমার বদলে বাড়ছে। এ অবস্থায় ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে মাত্র ২ শতাংশ এককালীন পরিশোধ সাপেক্ষে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছর মেয়াদে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিয়েছে সরকার। তাদের ঋণের সুদহারও কমিয়ে ৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত