অযোধ্যার বিতর্কিত ভূমিতে মন্দির নির্মাণের পক্ষে রায় দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। স্থানীয় মুসলিমরা অযোধ্যায় মসজিদ নির্মাণের জন্য পাঁচ একর ভূমি পাবেন বলেও রায়ে বলা হয়েছে। গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ অযোধ্যা মামলার রায় ঘোষণা করে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
রায়ের শুরুতেই প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের আর্জি ও নির্মোহী আখড়ার বিতর্কিত জমির ওপর দাবি খারিজ করে দেন। রায় ঘোষণার সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘হিন্দুরা বিশ্বাস করেন এখানেই রামের জন্মভূমি ছিল। তবে কারও বিশ্বাস যেন অন্যের অধিকার হরণ না করে। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (এএসআই) খননের ফলে যেসব জিনিসপত্র পাওয়া গেছে, তাতে স্পষ্ট যে সেগুলো অনৈসলামিক। তবে এএসআই একথা বলেনি যে তার নিচে মন্দিরই ছিল।’ ৪৬০ বছরের পুরনো বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা আইনের লঙ্ঘন ছিল বলেও মন্তব্য করেন গগৈ।
তিনি আরও বলেন, ‘বাবরের সহযোগী মীর বাকি মসজিদ তৈরি করেছিলেন। তবে কবে মসজিদ তৈরি হয়েছিল, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড ওই জমিতে অধিকার দাবি করতে পারবে না। তবে তারা মসজিদ নির্মাণের জন্য বিকল্প জমি পাবে।’
আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়, পৌনে তিন একরের ওই স্থানে মন্দির নির্মাণ হবে। জমিটি এখন ট্রাস্টের অধীনে চলে যাবে এবং ট্রাস্টি বোর্ড মন্দির নির্মাণসহ ওই স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ করবে। আর মসজিদের জন্য কাছাকাছি অন্য স্থানে পাঁচ একর জমি দিতে হবে সরকারকে।
রায় অনুযায়ী, আগামী ৩ মাসের মধ্যে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করবে সরকার। ওই বোর্ড মন্দির নির্মাণ করবে। ভারতীয় সময় বেলা ১১টায় রায় ঘোষণা শেষ হয়।
অযোধ্যা মামলার রায় ঘিরে বিশৃঙ্খলা এড়াতে গতকাল সকাল থেকেই গোটা উত্তর প্রদেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এ ছাড়া আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত রাজ্যের সব স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিবেশী কর্নাটক ও মধ্যপ্রদেশ রাজ্যেও একই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
অযোধ্যার রায়ের পর আবারও ১৯৯২ সালের মতো দাঙ্গা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়া ঠেকাতে সব রাজনৈতিক দল ও সম্প্রদায়ের নেতারা নিজ নিজ দলের কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত প্যানেল বাবরি মসজিদের ভূমি তিন ভাগে ভাগ করে বণ্টনের আদেশ দেয়। আদালত মুসলিম ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহী আখড়া আর রামলালা পার্টিকে সেখানকার ২ দশমিক ৭ একর জমি সমানভাগে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। হিন্দু-মুসলিম দুপক্ষই সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আপিল করেছিল। সেই আপিল নিষ্পত্তি করতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট রায়ে বলে, সমভাবে ভূমি বণ্টন করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল।
বাবরি মসজিদটি ১৯৯২ সালে ভেঙে ফেলার পর ভারতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় কমবেশি ২ হাজার মানুষ নিহত হয়। কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের দাবি, বাবরি মসজিদের জায়গাতেই ভগবান রামের জন্ম হয়েছিল। রামমন্দির ভেঙে সেখানে মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল। তবে মুসলিমরা বলছেন, মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরির কোনো প্রমাণ নেই।
