চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে মোরশেদুল আলম রিফাত নামে এক ছাত্রলীগকর্মীর বিরুদ্ধে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার শুক্কুর আলম দর্শন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত রিফাত ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক ‘বিজয়’ গ্রুপের কর্মী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। আহত শুক্কুরকে তার সহপাঠীরা উদ্ধার
করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভর্তির পর সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এদিকে ঘটনার পর রিফাতকে আটকের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছে চবি প্রশাসন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা দেশ রূপান্তরকে জানান, গতকাল সোমবার পরীক্ষা থাকায় রবিবার রাত ৮টার দিকে হলের সামনের দোকান থেকে রুটি কিনতে যান শুক্কুর। রুটি কিনে ফেরার সময় ছাত্রলীগকর্মী রিফাতের গায়ে ধাক্কা লাগে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শুক্কুরের। এতে উত্তেজিত হয়ে রিফাত শুক্কুরের ওপর চড়াও হন এবং লাথি, কিল ও ঘুষিসহ এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এমনকি শুক্কুরের কিছুদিন আগে অপারেশন করা চোখেও আঘাত করেন রিফাত। পরে সহপাঠীরা এসে তাকে উদ্ধার করে চবি মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে শুক্কুরের ওপর হামলার খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিক্ষোভ শুরু করেন প্রতিবন্ধী ছাত্রসমাজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডিসকু) সদস্যরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেন তারা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রতিবন্ধী ছাত্রসমাজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডিসকু) সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মারধরকারী ছাত্রলীগকর্মী রিফাতের বিচার দাবিতে আমরা প্রক্টর অফিসে স্মারকলিপি দিয়েছি। তাকে অনতিবিলম্বে আটক না করলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।’
শুক্কুরের ওপর হামলার বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ছাত্রলীগকর্মী রিফাতের সঙ্গে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) প্রণব মিত্র চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা অভিযুক্ত রিফাতকে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছি। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে বহিষ্কার করা হবে। এছাড়া ক্যাম্পাসে তাকে পাওয়া গেলে আটকের জন্য ইতিমধ্যে পুলিশকে জানানো হয়েছে।’
