জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে অপসারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনের
অন্তত ১০ সংগঠকের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের পুলিশ হয়রানি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, ওই ১০ জন হলেন ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম অনিক, দপ্তর সম্পাদক হাসান
জামিল, কার্যকরী সদস্য রাকিবুল হক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শোভন রহমান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (মার্কসবাদী) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাহাথির মোহাম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত দে, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক শাকিল উজ্জামান, মুখপাত্র আরমানুল ইসলাম খান, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুশফিক-উস-সালেহীন এবং জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের সহসাংগঠনিক সম্পাদক মুজিবুর রহমান শিশির।
এ ব্যাপারে গতকাল সোমবার মুশফিক-উস-সালেহীন বলেন, ‘পুলিশ আমার নানার বাড়িতে গিয়ে আমার পরিবারের বিস্তারিত তথ্য নেয়। এরপর থেকে আমার পরিবার আতঙ্কগ্রস্ত। তারা আমাকে নিয়ে চিন্তিত। উপাচার্য ঊর্ধ্বতন যোগাযোগের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছেন। এভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আন্দোলনকে দমনের চেষ্টা করা নিন্দনীয়।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরমে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে আমি নানার বাড়ির ঠিকানা দিয়েছিলাম। পুলিশ সেই ঠিকানাতেই গিয়েছিল। আমার ধারণা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্দোলন দমাতেই এমন কাজ করছে।’ ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’-এর আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অনেকের বাড়িতে পুলিশ গিয়ে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এতে তাদের পরিবার আতঙ্কের মধ্যে আছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ইন্ধন থাকতে পারে। আন্দোলনকে দমানোর একটি অপকৌশল হিসেবেই এসব করা হচ্ছে।’
এর আগে গত রবিবার ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদ সভাপতি মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় এক যৌথ বিবৃতিতে আন্দোলনকারীদের বাড়িতে পুলিশ যাওয়ার অভিযোগ এনে তার নিন্দা জানান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা কারও বাড়িতে পুলিশ পাঠাইনি। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। ওনারা পাঠালে পাঠাতে পারেন। এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।’
আজ থেকে ফের আন্দোলনের কর্মসূচি : উপাচার্য অপসারণের আন্দোলন দু’দিন স্থগিত থাকার পর আজ মঙ্গলবার থেকে ফের শুরু হচ্ছে কর্মসূচি। গত শনিবার রাতে সংবাদ সম্মেলন ডেকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান আন্দোলন দুই দিনের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছিলেন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সে অনুযায়ী গত রবি ও সোমবার আন্দোলনের কোনো কর্মসূচি পালিত হয়নি। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় পটচিত্র প্রদর্শনী, বেলা ৩টায় সংহতি সমাবেশ, সন্ধ্যা ৬টায় গানে গানে সংহতি নামে একটি অনুষ্ঠান এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে পথনাটক। এছাড়া আগামীকাল বুধবার বেলা ১১টায় নতুন কলা ভবন থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করবেন আন্দোলনকারীরা। উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে অপসারণ না করা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম পাপ্পু বলেন, ‘মঙ্গলবার ছাত্রলীগ দিয়ে হামলা করানোর পর এখন আন্দোলনকারীদের বাড়ি বাড়ি পুলিশ পাঠিয়ে ভয়ভীতি দেখানো ও হয়রানি করা হচ্ছে। কিন্তু আন্দোলন দমানোর যত অপচেষ্টাই করা হোক না কেন দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’
