সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বিরাজমান বেতন বৈষম্য নিরসনে তাদের গ্রেড উন্নীত করেছে সরকার। গত ৭ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাদিয়া শারমিন স্বাক্ষরিত নতুন একটি নির্দেশনা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে সব প্রধান ‘শিক্ষক জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫’-এর ১১তম গ্রেড এবং সব সহকারী শিক্ষক ১৩তম গ্রেডে বেতন পাবেন। বিরাজমান বেতন কাঠামোতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকদের গ্রেড আলাদা থাকলেও নতুন কাঠামোতে তাদের একই গ্রেডে রাখা হয়েছে। এদিকে নতুন এই গ্রেডে সন্তুষ্ট না হয়ে উল্টো ক্ষুব্ধ হয়েছেন শিক্ষকরা। খুব দ্রুতই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ নতুন গ্রেড প্রত্যাখ্যান করবেন বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন শিক্ষক সমিতির একাধিক নেতা।
বর্তমানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ১১তম গ্রেডে, প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষক ১২তম গ্রেডে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক ১৪তম গ্রেডে এবং প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষক ১৫তম গ্রেডে বেতন পেয়ে আসছিলেন। যা বেতন বৈষম্যের অন্যতম নিদর্শন উল্লেখ করে শিক্ষকরা এ বৈষম্য নিরসন করার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন। বেতন বৈষম্য নিরসন না করলে আসন্ন প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষাও বয়কটের হুমকি দিয়েছিলেন তারা। যদিও পরে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এবং সচিব আকরাম আল হোসেনের আশ্বাসে সে সিদ্ধান্ত থেকে তারা সরে আসেন। এরপর বেতন বৈষম্য নিরসনে গত ২৮ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
অবশেষে গত ৭ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগের বাস্তবায়ন-১ অধিশাখা থেকে বেতন কাঠামোসংক্রান্ত চিঠি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হয়। অর্থ বিভাগের এই চিঠির পর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতনের কোনো পার্থক্য থাকল না।
২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলে বর্তমানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বেতন ১২৫০০-৩০২৩০ টাকা (গ্রেড-১১) এবং প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল ১১৩০০-২৪৬৮০ টাকা (গ্রেড-১৪) ছিল। নতুন কাঠামোতে অর্থ বিভাগ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় ক্ষেত্রেই প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল ১২৫০০-৩০২৩০ টাকা (গ্রেড-১১) নির্ধারণ করে দিয়েছে। অন্যদিকে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ছিল ১০২০০-২৪৬৮০ টাকা (গ্রেড-১৪) এবং প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষকের বেতন স্কেল ছিল ৯৭০০-২৩৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৫); প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষকের উভয় ড়্গেত্রেই বেতন স্কেল ১১০০০-২৬৫৯০ টাকা (গ্রেড-১৩)-তে উন্নীত করেছে অর্থ বিভাগ।
চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি আদেশ জারির তারিখ থেকে শিক্ষকদের উন্নীত বেতন গ্রেড কার্যকর হবে। সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীনদের ১৩তম গ্রেড হওয়ায় বর্তমান অবস্থায় প্রায় ১২ বছর চাকরি করে এ গ্রেডে আসত। এতে তারা ১২ বছর এগিয়ে থাকল।
এদিকে নতুন এ বেতন কাঠামোকে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতিসহ শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠন। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নতুন গ্রেড আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। এর কারণ এই গ্রেডে আবারও বৈষম্য থেকে গিয়েছে। বেতম বৈষম্য নিরসন চেয়ে গ্রেড উন্নীত হয়েছে ঠিকই কিন্তু একজন সিনিয়র শিক্ষক ও জুনিয়র শিক্ষকের বেতন একই গ্রেডে কীভাবে হয়? প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা যে গ্রেডে বেতন পাবেন প্রশিক্ষণ না নিয়েও একজন শিক্ষক একই বেতন তুলবেন। এর মতো বৈষম্য আর কী হতে পারে? আমরা খুব দ্রুত সংবাদ সম্মেলন করে এটি প্রত্যাখ্যান করব।’
