আমিরাত সিমেন্ট বাংলাদেশ ও আমিরাত পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের শতভাগ শেয়ার অধিগ্রহণে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদন দিয়েছে। এ দুই কোম্পানি অধিগ্রহণে ১৮২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয় করবে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পাওয়ার পর অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ, যা জার্মানভিত্তিক কোম্পানি হাইডেলবার্গ সিমেন্ট গ্রুপের একটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান।
বাংলাদেশে আমিরাত সিমেন্ট ও পাওয়ার কোম্পানির মালিকানায় রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কোম্পানি আল্টাট্রেক সিমেন্ট মিডলইস্ট ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড। ২০০৫ সালে দুবাইয়ের কোম্পানি ইটিএ স্টার সিমেন্ট বাংলাদেশে আমিরাত সিমেন্ট স্থাপন করে।
পরে ২০১০ সালে আল্টাট্রেক সিমেন্ট মিডলইস্ট ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড তা অধিগ্রহণ করে। এ অধিগ্রহণের পর কোম্পানিটি গত নয় বছরের মধ্যে পাঁচ বছরই লোকসানে ছিল।
আল্ট্রাটেক অধিগ্রহণের পর গত নয় বছরের মধ্যে আমিরাত সিমেন্টের সর্বোচ্চ বিক্রি ছিল ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৮৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। আর সর্বনিম্ন বিক্রি ছিল ২০১০-১১ হিসাব বছরে ১৩৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা। ২০১৮-১৯ হিসাব বছর শেষে আমিরাত সিমেন্টের পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ হচ্ছে ৫৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। অধিগ্রহণের পর আমিরাত সিমেন্ট থেকে কোনো লভ্যাংশ নিতে পারেনি আল্ট্রটেক সিমেন্ট।
বর্তমানে বাংলাদেশে ৭৫টি সিমেন্ট কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে ৩৫টি সচল। বর্তমানে বাংলাদেশে সিমেন্টের বার্ষিক চাহিদা ৩ কোটি ১০ লাখ টন। আর সিমেন্ট কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ৫ কোটি ৮০ লাখ টন।
চাহিদার তুলনায় উৎপাদন সক্ষমতা বেশি থাকায় তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছে খাতটি। সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকারের আন্তর্জাতিক মূল্য বাড়লেও একই হারে দর বাড়াতে পারেনি কোম্পানিগুলো।
এদিকে সিমেন্টের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আমিরাত সিমেন্ট ও বিদ্যুৎকেন্দ্র অধিগ্রহণে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের কারণে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে লোকসানে রয়েছে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ।
আমিরাত সিমেন্ট ও বিদ্যুৎকেন্দ্র অধিগ্রহণে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পাওয়ার পর গতকাল আল্টাট্রেক সিমেন্ট মিডলইস্ট ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড ও হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ অর্থ স্থানান্তরে একটি চুক্তিতে উপনীত হয়েছে।
