এবার পাবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষায় থাকা খাওয়া ফ্রি!

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০২:১৫ এএম

এবার পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের বিনা খরচে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এই প্রথমবারের মতো জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জেলা পুলিশ,

 জেলা পরিষদ, সদর উপজেলা পরিষদ, জেলা চেম্বার অব কমার্স এবং অন্যান্য বিভিন্ন দপ্তরের সহযোগিতায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। আগামীকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ভর্তি পরীক্ষায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে চলতি বছর প্রথমে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছিল; যা সব মহলের সাধুবাদ পায়।

আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ভর্তি পরীক্ষায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেবেন বলে পাবিপ্রবি কর্র্তৃপক্ষ দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছাড়াও শহরের ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাকেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বেলা সাড়ে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দুই দফায় এ ও বি ইউনিটের পরীক্ষা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পরীক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘেœ হলেও প্রতি বছর পাবিপ্রবিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা চরম বিপাকে পড়েন আবাসন নিয়ে। ছোট এই শহরে হাতে গোনা কয়েকটি হোটেল ও সরকারি-বেসরকারি রেস্টহাউজে আগতদের স্থান সংকুলান হয় না। আর সুযোগ বুঝে বাড়তি ভাড়াও আদায় করে হোটেল মালিকরা। অন্যদিকে খাবারের ইচ্ছেমতো মূল্য হাঁকেন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরাও। ফলে খাবার ও আবাসন নিয়ে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হন আগতরা। ভর্তি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ লাঘবে এ বছর এগিয়ে এসেছে পাবনাবাসী।

পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন দেশ রূপান্তরকে জানান, ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে আসা সবার থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে জেলা প্রশাসন ৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত করেছে। জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ পুরো বিষয় তদারক করছেন। এ ছাড়া আগতদের অধিকাংশেরই পাবনা শহর অচেনা। এ জন্য নির্ধারিত পরীক্ষা কেন্দ্রের কাছাকাছি আবাসনে সহজে পৌঁছাতে সাহায্যের জন্য পাবনা শহরে প্রবেশের বিভিন্ন পয়েন্টে ৬টি বুথ খোলা হয়েছে। বাস টার্মিনাল, গাছপাড়া, অনন্ত বাজার মোড়, ট্রাফিক মোড় ও সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার সামনে স্থাপিত ওই সব বুথে এবং বিভিন্ন আবাসনকেন্দ্রে সেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে রোভার ও স্কাউটসসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। পরীক্ষার আগের দিন অর্থাৎ আজ দুপুর ২টা থেকে আগামীকাল সকাল ১০টা পর্যন্ত  সব আবাসন স্থল ও বুথ খোলা থাকবে।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতি বছর ভর্তি পরীক্ষার জন্য আগতরা খাবার ও আবাসন নিয়ে চরম বিপদে পড়েন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষের জন্য এই বিপুলসংখ্যক অতিথির আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা দুঃসাধ্য ব্যাপার। বিষয়টি নিয়ে বিব্রত ও দুঃখিত হলেও আমাদের চেয়ে চেয়ে দেখতে হতো। এবার সে সমস্যা থাকছে না। আশা করছি পরীক্ষার্থীরা নিরাপদে ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, ‘পাবিপ্রবিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা আমাদের মেহমান। তাই তাদের থাকা-খাওয়ার সব দায়িত্ব আমাদের। এ কাজে পাবনার সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রোভার স্কাউট, পেশাজীবী ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছেন। আশা করছি আমাদের মেহমান ও সন্তানতুল্য পরীক্ষার্থীরা কোনো দুর্ভোগে পড়বেন না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত