আবুধাবির শ্বেত-শুভ্র শেখ জায়েদ মসজিদ

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ১০:০১ পিএম

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন শহরে অসংখ্য মসজিদ আছে। বিপুল সংখ্যক এই মসজিদের মাঝে বেশ কয়েকটি সুপরিচিত তাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের কারণে। দেশটির রাজধানী আবুধাবিতে প্রায় হাজার মসজিদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত শেখ জায়েদ মসজিদ নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

মসজিদ প্রতিষ্ঠা ও বিশেষত্ব

শেখ জায়েদ মসজিদের সবার জন্য ‘দ্বার খোলা রাখার নীতি’ মনে করিয়ে দেয় ইসলামের স্বর্ণযুগের কথা, যখন মসজিদগুলোই ছিল মানুষের মিলনমেলার কেন্দ্র। প্রতি বছর ১০ লাখেরও বেশি দর্শনার্থী আসেন এই মসজিদ দেখতে। মসজিদের সৌন্দর্য দেখার জন্য সব ধর্মের মানুষই পান অগ্রাধিকার। এই মসজিদের বিশেষত্ব এটাই। মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা শেখ জায়েদের ভাবনায় কেবল মুসলিমদের জন্য একটা মসজিদ ছিল না, বরং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটা পাটাতন গড়ে তোলার চিন্তা ছিল।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান রূপকার ও দীর্ঘ সময় ধরে দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের নামেই মসজিদটির নাম রাখা হয় ‘শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মস্ক’।

১৯৮০ সালের শেষের দিকে এই মসজিদ নির্মাণের কথা ভাবেন শেখ জায়েদ। বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের সময় জায়েদ স্থাপত্য নকশায় সমৃদ্ধ মসজিদগুলোর সৌন্দর্য খুব ভালো করে খেয়াল করতেন। শেষ পর্যন্ত ১৯৯০ সালে শেখ জায়েদের স্বপ্নের মসজিদের নকশা পূর্ণ রূপ পায়। শেখ জায়েদ নিজেই করেছিলেন নকশাটি। মসজিদের জায়গাও তিনি নির্ধারণ করেছেন এবং প্রতিটি সূক্ষ্ম নকশা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনেছেন। সবকিছু বিবেচনা করে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পুরো মসজিদকে সাদা আবরণে ঢেকে দিতে। এই নকশা করার জন্য শেখ জায়েদ দায়িত্ব দেন স্থপতি ইউসুফ আবদেল্কিকে। শেখ জায়েদ এমন একটি মসজিদ নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন, যা হবে জাতির প্রতি তার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। পুরো মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য তার তৈরি করা মসজিদ হবে একটি উজ্জ্বল নিদর্শন।

দেয়ালজুড়ে ধবধবে সাদা মার্বেল

শেখ জায়েদ মসজিদের দেয়াল তৈরি হয়েছে ধবধবে সাদা মার্বেল দিয়ে। অনিন্দ্য সুন্দর এই মার্বেল নিয়ে আসা হয়েছে ম্যাসিডোনিয়া থেকে। সাদা রং পবিত্রতা, শুদ্ধতার প্রতীক। শুদ্ধতার আমেজ ছড়িয়ে দিতেই মসজিদটিকে সাদা রঙে সজ্জিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শেখ জায়েদ। সাদা রঙের চমকে মসজিদের সৌন্দর্য যেন দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। পুরো মসজিদের সাদা দেয়ালের মাঝে ফুলের আকারে সাজানো আছে রঙিন পাথর। মসজিদে প্রবেশের শুরু থেকে প্রধান নামাজ ঘর পর্যন্ত দেয়াল জুড়ে ফুলের অসাধারণ সূক্ষ্ম এই কারুকাজ দেখা যায়। বিভিন্ন রং দিয়ে সাজানো দেয়ালের প্রতিটি ফুল।

প্রধান নামাজ ঘরের সৌন্দর্য

দেয়ালজুড়ে মুগ্ধতার রেশ কাটতে না কাটতেই দর্শক ফের বিস্মিত হবেন নামাজ ঘরে প্রবেশ করলে। মসজিদের নামাজঘর যেন নিজেই একটি শিল্প। মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত প্রতিটি জায়গায় করা হয়েছে সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম কাজ। মসজিদের মেঝেতে সাজানো আছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি কার্পেট। বলা হয়, এই কার্পেটটিই বিশ্বের সর্ববৃহৎ কার্পেট। কার্পেটের নকশা করেছিলেন ইরানি নকশাকার আল খালিকি। আল খালিকির আগের প্রজন্মও কর্মরত ছিলেন কার্পেট নকশার পেশায়। তিনি তৃতীয় প্রজন্মের নকশাকার। বৃহৎ এই কার্পেটের আয়তন ৫৬২৭ ঘন মিটার (৬০৫৭০ ঘন ফিট)। কার্পেটের নকশায় কাজ করেছিলেন ১২০০ তাঁতি, ২০ জন টেকনিশিয়ান এবং ৩০ জন শ্রমিক। দারুণ নকশায় সজ্জিত এই কার্পেটের ওজন ৪৭ টন যার মধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে ৩৫ টন উল এবং ১২ টন কটন। কটনের সংখ্যা ছিল ২২৬৮০০০০০০টি।

নকশা করা মেঝের সৌন্দর্যই বলে দেয় ঘরের ওপরের অংশ আরও সুন্দর এবং নান্দনিক হবে। পুরো মসজিদে মোট সাতটি ক্রিস্টালের তৈরি ঝাড়বাতি আছে। সাতটির মধ্যে ১২ টন ওজনের সবচেয়ে বড় ঝাড়বাতিটি স্থাপন করা হয়ে নামাজ ঘরে। তুলনামূলক ছোট ঝাড়বাতিগুলো স্থাপন করা হয়েছে হলরুমে। এই ঝাড়বাতিগুলোর প্রতিটির ওজন ৮ টন। প্রতিটি ঝাড়বাতিতে আছে ক্রিস্টাল দিয়ে মুগ্ধ করার মতো সূক্ষ্ম কাজ। ঝাড়বাতিগুলো নিয়ে আসা হয়েছে জার্মানি থেকে। এত সুন্দর আর বৃহৎ ঝাড়বাতি বিশ্বের অন্য কোনো স্থাপনায় নেই। মসজিদের প্রধান নামাজ ঘরের পুরো দেয়াল আর সিলিং জুড়েও মার্বেলের কাজ করা হয়েছে। মক্কামুখী দেয়াল যেখানে মিমবারের ওপর দাঁড়িয়ে ইমাম খুতবা পড়েন সেই জায়গায় আরবিতে আল্লাহর ৯৯ নাম লেখা আছে। ভক্তি আর শ্রদ্ধার অনন্য নিদর্শন লিখিত এই নামগুলো। নামের নকশাগুলোতে এক ধরনের আলো ব্যবহার করা হয়েছে যা দেখলে মনে হয় প্রতিটি নকশার লাইনের সঙ্গে আলো জ্বালানো আছে। পুরো মসজিদের শুরু থেকে শেষ নানা ধরনের কারুকার্য খচিত নকশা করা।

এই মসজিদে একসঙ্গে ৪০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। প্রধান নামাজঘরে ৯ হাজার এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত দুটি নামাজ ঘরের প্রতিটিতে ১৫০০ জন করে মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। এই নামাজঘর দুটি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত।

বাইরের সৌন্দর্য ও আলোকসজ্জা

শেখ জায়েদ মসজিদে ছোট-বড় সব মিলিয়ে ৮২টি স্তম্ভ আছে। মসজিদের বাকি অংশের মতো স্তম্ভগুলোও মার্বেল পাথর দিয়ে তৈরি। প্রতিটি স্তম্ভের শীর্ষেই সোনালি গ্লাস লাগানো আছে। মসজিদের নামাজ ঘরের জানালার নিচের স্তম্ভগুলো দিয়ে

প্রাকৃতিক আলো প্রবেশ করে। সবচেয়ে বড় স্তম্ভটি নামাজ ঘরের ওপরেই অবস্থিত।

সন্ধ্যার সময়েও যেন মসজিদের বাইরের সৌন্দর্য দেখতে কোনো কমতি না হয় তাই মসজিদে আছে ২২টি লাইট টাওয়ার। মসজিদের আলোকসজ্জাও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। চাঁদের বিভিন্ন সময়ের পরিবর্তন তুলে ধরা হয় এই আলোর মাধ্যমে। অন্ধকার আকাশে কালো মেঘ কাটিয়ে অর্ধচন্দ্রাকৃতি চাঁদ ওঠার মাধ্যমে নতুন মাস শুরু হয়ে ধীরে ধীরে পূর্ণ চাঁদে পরিণত হওয়াকেই দেখায় মসজিদের এই আলো দ্বারা।

শেখ জায়েদ মসজিদের প্রায় চারদিক ঘিরে রেখেছে স্বচ্ছ টলটলে জলের চৌবাচ্চা। রাতের বেলায় বিশেষভাবে আলোকিত এই মসজিদ চত্বরে চলে আলোর খেলা। দিন আর রাতে জলের চৌবাচ্চায় ভবনের প্রতিবিম্ব প্রতিফলিত হয়ে তৈরি করে দারুণ এক জলছবি।

বিষয়টা এমনই যে, বছরজুড়ে মসজিদ দেখতে আসা দর্শনার্থীদের তোলা এসব চৌবাচ্চা আর মসজিদ চত্বরের ছবি নিয়ে আয়োজন করা হয় আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার। সেরা ছবিগুলো প্রদর্শিত হয় এমিরেটস প্যালেস হোটেলের প্রধান লবির গ্যালারিতে এবং সেগুলো ছাপাও হয় ‘স্পেসেস অব লাইট’ নামে।

মসজিদটির ভেতরে বাইরে চোখ ধাঁধানো মোজাইকে গড়া কারুকাজ দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি সুন্দর এ মসজিদের অত্যাধুনিক ফিটিংসের শৌচাগার ও ওজুখানাগুলো। মূল মসজিদ থেকে অল্প দূরে সুদৃশ্য ওজুখানায় রয়েছে গরম ও ঠাণ্ডা পানির বিশেষ ব্যবস্থাও। মসজিদের চতুর্দিকে যেমন রয়েছে মনোরম পরিবেশে সবুজের সমারোহে ঘেরা গাড়ির পার্কিং, তেমনি মসজিদের চতুর্দিকের বেজমেন্টেও সুদৃশ্য ও সুবিন্যস্ত আধুনিক গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা।

মিনার ও গ্রন্থাগার

মসজিদের মিনার সংখ্যা চারটি। প্রতিটির দৈর্ঘ্য ১০৬ মিটার। প্রতিটি মিনার তৈরি করা হয়েছে তিনটি ভিন্ন ধরনের জ্যামিতিক আকৃতি দ্বারা। মিনারের প্রথম ভিত্তিটি চার কোনা। এই স্থাপত্য নকশা মরক্কো, আন্দালুসিয়ান এবং মামেলুক রীতিকে অনুসরণ করে।

মিনারের দ্বিতীয় ধাপটি অষ্টভুজ আকৃতির। এই নকশা ধারণ করে ত্রয়োদশ থেকে ষোড়শ শতকজুড়ে বিস্তৃত মামলুক যুগের স্থাপত্য রীতিকে। তৃতীয় ধাপটি নকশায় নলাকার। এই নকশা ধারণ করে আছে চতুর্দশ থেকে শুরু করে বিংশ শতক পর্যন্ত রাজত্ব করা অটোমান সাম্রাজ্যের স্থাপত্য রীতিকে। সোনালি মোজাইক দিয়ে সজ্জিত সবচেয়ে ওপরের ধাপটি ফিরিয়ে নিয়ে যায় দশম থেকে দ্বাদশ শতকের ফাতিমিদ যুগে।

মসজিদের নকশার একটি ছোট সংস্করণ প্রবেশমুখে কাচের বাক্সে রাখা আছে। এটি দেখলে একনজরে পুরো মসজিদ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমও এই মসজিদের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়। আধুনিক ও ইসলামি বইয়ের এক অনন্য সংগ্রহশালা রয়েছে জায়েদ মসজিদের লাইব্রেরিতে। ইসলামি বিশ্বের বৈচিত্র্য এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঐতিহ্য ফুটিয়ে তুলতে সংগ্রহ করা হয়েছে আরবি, ইংরেজি, ফরাসি, ইতালীয়, স্পেনীয়, জার্মান ও কোরীয়সহ বিভিন্ন ভাষার বই।

রমজান মাসে মুসল্লিদের উপস্থিতি

রমজানে তারাবির নামাজসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের জন্য যেমন ধর্মপ্রাণ নারী-পুরুষ এ মসজিদে যান, তেমনি এ মসজিদের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে বাংলাদেশি প্রবাসীসহ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার পর্যটকও প্রতিদিন সেখানে যান।

জুমা আর ঈদের নামাজে মানুষের উপচেপড়া ভিড় আর রমজানের গণ-ইফতার পার্টির জমায়েত না দেখলে বোঝাই যায় না কত মানুষ এখানে নামাজ পড়তে, ইফতার করতে ও দেখতে আসেন। মসজিদে নারীদের জন্য রয়েছে নামাজের আলাদা ব্যবস্থা। মসজিদের আঙিনায় অন্য ধর্মাবলম্বী নারীদের প্রবেশে বাধা

থাকলেও বোরকা পরে মসজিদের আঙিনাসহ ভেতরে মসজিদের অপরূপ কারুকাজ ও সৌন্দর্য দেখতে যাওয়াতে আপত্তি নেই কর্র্তৃপক্ষের। মসজিদটির পাশেই আমিরাতের জনক শেখ জায়েদ বিন আল নাহিয়ানের মাজার। যা দেখতেও পর্যটকদের ভিড় জমে মসজিদ প্রাঙ্গণে। প্রতিদিন শত শত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ হাজার হাজার পর্যটক তার মাজার জিয়ারত করতে আসেন এ স্থানে।

প্রতি বছর রমজান মাসে এ মসজিদ প্রাঙ্গণে ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়। পুরো রমজান মাসব্যাপী এখানে গণ-ইফতারের আয়োজন সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। রমজানের গণ-ইফতার পার্টিতে যোগ দিতে ও তারাবির নামাজ আদায় করতে আমিরাতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ছুটে আসেন এ মসজিদে। রমজান মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ইফতারের সুবিধার জন্য বিশাল আকারের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্যান্ডেলও নির্মাণ করা হয়।

তাঁবুর বাইরে মসজিদের সবুজ পার্কেও হাজার হাজার রোজাদার ইফতারের বিশাল জমায়েতে অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের এ বিশাল আয়োজন সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রেসিডেন্টের তহবিল থেকে করা হয়। আবুধাবির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এ ইফতার পার্টিতে প্রবাসীদের সহজে আসা-যাওয়ার জন্য ফ্রি বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হয়। ইফতার পার্টির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও তদারকির জন্য শত শত স্বেচ্ছাসেবকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রচুর সদস্য প্রতিদিন ইফতারের সময় উপস্থিত থাকেন।

নির্মাতা শেখ জায়েদ

শেখ জায়েদকে বলা হয় আরব আমিরাতের জাতির পিতা। বাবা শেখ সুলতান বিন জায়েদ বিন খলিফা আল নাহিয়ান এবং মা শাইখা সালমা বিনতে বুতি আল হামিদের চার সন্তানের মাঝে জায়েদ ছিলেন সবার ছোট। দাদা শেখ জায়েদ বিন খলিফা আল নাহিয়ানের নামে তার নাম রাখা হয়েছিল। জীবনের প্রথম ১৫ বছর তিনি আল-আইনে বড় হন। তিনি ইসলামের মৌলিক বিষয়াদি শিক্ষালাভ করেন এবং মরুভূমিতে বেদুইনদের সঙ্গে থাকতেন।  এর ফলে জনগণের জীবনধারার সঙ্গে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন, তাদের ঐতিহ্যবাহী দক্ষতা ও কঠিন আবহাওয়াগত পরিবেশে টিকে থাকার জন্য তাদের সামর্থ্য সম্পর্কে জানতে পারেন।

১৯৪৬ সালে শেখ জায়েদ আবুধাবির পূর্বাঞ্চলের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান। আল আইনের মুওয়াইজি দুর্গ ছিল তার শাসনকেন্দ্র। ১৯৫৮ সালে তেল আবিষ্কার এবং ১৯৬২ সালে তেল রপ্তানি শুরু হওয়ার পর শেখ শাখবুতের শাসন নিয়ে রাজবংশের অসন্তোষ দেখা দেয় যার ফলে ১৯৬৬ সালের ৬ আগস্ট শাখবুত ক্ষমতাচ্যুত হলে শেখ জায়েদ আবুধাবির শাসক হন।

১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর আরব আমিরাত স্বাধীন হলে আবুধাবির সঙ্গে বাকি ছয়টি প্রদেশ নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত গঠিত হয়। শেখ জায়েদ এসময় রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন, পরবর্তীতে ১৯৭৬, ১৯৮১, ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালে তিনি পুনরায় নিয়োগ পান। ১৯৭৪ সালে জেদ্দার চুক্তির মাধ্যমে তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ নিরসন করেন। শেখ জায়েদ বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ছিলেন। ফোর্বসের একটি হিসাব অনুযায়ী তার সম্পদের মূল্য ছিল ২০ বিলিয়ন ডলার। তেল রাজস্বের আয়ের মাধ্যমে জায়েদ হাসপাতাল, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনগণ ও এখানে বসবাসকারী ভিনদেশি নাগরিকের সুবিধায় অনকে কল্যাণমূলক কাজ করেন শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান। এছাড়া বহির্বিশ্বেও তিনি বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করেছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত তথা মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামের প্রচার প্রসারে শেখ জায়েদ অনেক কাজ করে গেছেন। প্রকৃত জনদরদী, দেশি-বিদেশি সকল মানুষের ভালোবাসার প্রতীক শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ২০০৪ সালের ২ নভেম্বর ৮৬ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। আবুধাবির শেখ জায়েদ মসজিদের পাশে তাকে দাফন করা হয়। তার সমাধির পাশে প্রতিনিয়ত কুরআন তেলাওয়াত চলতে থাকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত