সাম্প্রতিক সময়ে দেশে উৎপাদিত ওষুধ ১০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদিত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে ওষুধ উৎপাদনকারী দেশি কোম্পানিগুলোর বিক্রি থেকে আয় বেড়েছে। এতে ওষুধ উৎপাদনকারী বেশিরভাগ কোম্পানির মুনাফা আনুপাতিক হারে বাড়লেও কয়েকটি কোম্পানি পিছিয়ে পড়েছে। এ খাতে দেশের শীর্ষ কোম্পানি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের বিক্রি বাড়লেও একই হারে নিট মুনাফা বাড়েনি। চলতি ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে।
দেশে ওষুধ শিল্পে শীর্ষ কোম্পানি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। চলতি প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এ কোম্পানির ওষুধ বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ১২ শতাংশ। এ সময় স্কয়ার ফার্মার সমন্বিত নিট টার্নওভার হয়েছে ১ হাজার ১২৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৫৪ কোটি টাকা। তবে বিক্রির তুলনায় উৎপাদন, বিতরণ ও প্রশাসনিক ব্যয় বাড়ায় আনুপাতিক হারে পরিচালন আয় তেমন বাড়েনি। চলতি প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির পরিচালন আয় হয়েছে ৩৬৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।
চলতি প্রথম প্রান্তিকে সুদ বাবদ আয় দ্বিগুণ বেড়েছে স্কয়ার ফার্মার। এ সময় সুদ বাবদ আয় হয়েছে ৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০২ শতাংশ বেশি। এর ফলে কোম্পানির করপূর্ববর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৪২২ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩৮৯ কোটি টাকা। আর কর পরিশোধ ও সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রাপ্ত আয়ের পর চলতি প্রথম প্রান্তিকে স্কয়ার ফার্মার নিট মুনাফা হয়েছে ৩৩৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।
ওষুধ শিল্পে শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি রেনেটা লিমিটেডের চলতি প্রথম প্রান্তিকে বিক্রি বেড়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ। এ সময় ওষুধ বিক্রি থেকে রেনেটার আয় হয়েছে ৬৪০ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫১৭ কোটি টাকা। উৎপাদন, বিক্রি, বিতরণ ও প্রশাসনিক ব্যয় বাদ দেওয়ার পর পরিচালন আয় দাঁড়িয়েছে ১৫২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। মুনাফায় শ্রমিকের অংশ ও কর পরিশোধের পর চলতি প্রথম প্রান্তিকে রেনেটার নিট মুনাফা হয়েছে ১০২ কোটি ৯১ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।
ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের বিক্রি থেকে আয় বেড়েছে ১৭ শতাংশ। চলতি প্রথম প্রান্তিকে বেক্সিমকোর টার্নওভার ছিল ৬৩০ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫৩৮ কোটি টাকা। উৎপাদন, বিক্রি, মার্কেটিং, বিপণন ও প্রশাসনিক ব্যয় মিটানোর পর চলতি প্রথম প্রান্তিকে বেক্সিমকো ফার্মার পরিচালন আয় হয়েছে ১৪৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। সুদ ব্যয়, মুনাফায় শ্রমিকের অংশ ও কর পরিশোধের পর চলতি প্রথম প্রান্তিকে বেক্সিমকো ফার্মার নিট মুনাফা হয়েছে ৮৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।
দি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড চলতি প্রথম প্রান্তিকে ওষুধ বিক্রি থেকে আয় করেছে ১৫৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। উৎপাদন ব্যয় বাদ দেওয়ার পর ইবনে সিনা ফার্মার মোট আয় হয়েছে ৬৩ কোটি টাকা। আর বিক্রি ও বিতরণ ব্যয়ের পর চলতি প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির পরিচালন আয় দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা, যা আগের বছর ছিল ১১ কোটি টাকা। সুদ ও কর পরিশোধের পর ইবনে সিনা ফার্মা চলতি প্রথম প্রান্তিকে নিট মুনাফা করেছে ৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।
প্রথম প্রান্তিকে ১৪ শতাংশ বিক্রি বেড়েছে দি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের। এ সময় কোম্পানিটির বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ৪৬৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩৯১ কোটি টাকা। উৎপাদন ব্যয় বাদ দেওয়ার পর একমির মোট আয় হয়েছে ১৭৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। আগের বছরের তুলনায় চলতি প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির অন্যান্য আয় কিছুটা কমেছে। কোম্পানির বিক্রি, বিতরণ, মার্কেটিং ও প্রশাসনিক ব্যয় বাদ দেওয়ার পর পরিচালন আয় হয়েছে ১০১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে সাড়ে ১২ শতাংশ বেশি। একমির সুদ ব্যয় বেড়েছে ২৫ শতাংশ বেশি। মুনাফায় শ্রমিকের অংশ ও কর পরিশোধের পর চলতি প্রথম প্রান্তিকে একমির নিট মুনাফা হয়েছে ৩৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৩ শতাংশ বেশি।
এছাড়া ফার্মাসিউটিক্যালস খাতের অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে চলতি প্রথম প্রান্তিকে ওরিয়ন ইনফিউশনের নিট মুনাফা ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ, অ্যাডভেন্ট ফার্মার নিট মুনাফা ১৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ, বিকন ফার্মার সাড়ে ১২ শতাংশ ও ইন্দো বাংলা ফার্মার ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ নিট মুনাফা বেড়েছে। বিপরীতে সিলকো ফার্মার মুনাফা আগের বছরের তুলনায় কমেছে।
