ভারতের বিপক্ষে ইন্দোর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ের ধরন চোখে লাগার মতো। কিন্তু এই ব্যর্থতার পেছনে আছে মিডিয়ারও ভূমিকা। ক্রিকেটারদের ওপর যেটির নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। হলকার স্টেডিয়ামে প্রথম দিনের খেলা শেষে বলে গেলেন নতুন টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক।
১৫০ রানে প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছে। ভারত করে ফেলেছে ১ উইকেটে ৮৬। অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকের দিনটা মুমিনুলের ভালো যায়নি মোটে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হলো বাজেভাবে। কিন্তু দিনের শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন আসে, ভারতের তিন ফাস্ট বোলারের আক্রমণের মুখে ব্যাটসম্যানদের ভয় পেতে দেখা গেছে। তাহলে তারা কি এমন বোলিং খেলতে মানসিকভাবে তৈরি নন?
‘মানসিকভাবে তৈরি হয়েই নেমেছি। আমার কাছে সত্যি কথা শুনুন। আপনাদের কাছে হয়তো হাস্যকর লাগবে। যে কোনো সিরিজ শুরু করার আগে আপনাদের একটা বড় ভূমিকা থাকে। কথাটা আমার বিরুদ্ধে হয়তো আসতে পারে। আপনারা অন্যভাবে নিয়েন না প্লিজ।’ মুমিনুল বলে চলেন, ‘আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলার আগেও আপনারা এমনভাবে প্রশ্ন করেন যে রাশিদ খান আছে, এ আছে, ও আছে। জিনিসটা আপনি যত চিন্তা না করেন, আপনার মাথায় কিন্তু অটোমেটিক ঢুকবে। এভাবে যদি আপনারা উপস্থাপন করেন আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যায়।’ প্রসঙ্গত, টেস্ট পরিবারে নতুন আফগানদের বিপক্ষে দু মাস আগে প্রথমবার টেস্ট খেলতে নেমে বাজেভাবে হেরেছে বাংলাদেশ দল। তাও দেশে। তখন অধিনায়ক ছিলেন সাকিব আল হাসান।
মুমিনুল প্রেসকেও তাদের ব্যর্থতার জন্য দায়ী করার পর একজনের প্রশ্ন, এই পর্যায়ে প্রশ্নের চাপ তো নিতে হয় যেমনটা তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিতে অভ্যস্ত। মুমিনুল মনস্তাত্ত্বিক দিকটা টেনে এনে বলেন, ‘হ্যাঁ, প্রশ্ন আপনি যাই প্রশ্ন করেন উত্তর আমার কাছে। কিন্তু মানুষের মনটা এরকম যে একটু ঢুকিয়ে দিলে তা খেলতে থাকে। আমার এই জায়গায় আরও বেশি স্ট্রং হতে হবে। আমি শুধু না, সবারই এই জায়গায় মনস্তাত্ত্বিক দিক দিয়ে শক্তিশালী হতে হবে।’
যেমন মুমিনুল মানছেনÑ ভারতের এমন পেস আক্রমণের মুখে নিজেকে কেউ অপ্রস্তুত আবিষ্কার করলে সেটা তার ব্যর্থতা। ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ১২০ কিংবা ১৪০ গতির বোলিং খেলতে তৈরি থাকতে হবে। এখন আর ১২০ কিংবা ১৩০ গতির বোলার নেই। সবাই ১৪০-এই বল করে। এখন কেউ যদি মানসিকভাবে তৈরি থাকতে না পারে সেটা তার ব্যর্থতা। আমি তৈরি থাকতে না পারলে সেটা আমার ব্যর্থতা।’
পেস বোলারদের জন্য চমৎকার উইকেট। সেখানে ৩ পেসার না নিয়ে নামা কিংবা টস জিতে বোলিং না নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামার কারণ কী? মুমিনুল তার সিদ্ধান্তকে সঠিক মানেন। কিন্তু প্রশ্নটা উঠছে বলে বলতে হচ্ছে, ‘যখন ব্যাটিংয়ে এমন ব্যর্থ হতে হয় তখন দিনের শেষে সিদ্ধান্তের কথাটাই আসবে। যদি আমরা ইনিংসটা ভালোভাবে গড়তে পারতাম তাহলে এই প্রশ্ন আসত না।’ এর সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমি ও মুশফিক ভালোই মানিয়ে নিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ পতন হলো। তাই ব্যর্থ হলাম।’
আর দুই পেসার নিয়ে নামার প্রসঙ্গে তার ব্যাখ্যা, ‘আমাদের স্টকে নিয়মিত চারদিনের ম্যাচ খেলা পেস বোলার কম সত্যি বলতে। যে দুজন খেলছে তারা নিয়মিত চারদিনের ম্যাচ খেলে।’
ইশান্ত শর্মা-উমেশ যাদব-মোহাম্মদ শামি মিলে ৭ উইকেট নিয়েছেন। উইকেট কতটা সহায়ক ছিল তাদের জন্য তা বোলিং দেখে বোঝা গেছে। কিন্তু সেই উইকেট ব্যাটসম্যানদের জন্য খেলার অযোগ্য ছিল তা মুমিনুলও স্বীকার করেন না, ‘উইকেট কখনোই আনপ্লেয়বল ছিল না। যে দলের বিপক্ষে খেলছি তারা বিশ্বের এক নম্বর। ওদের সঙ্গে খেলতে গেলে তাদের চেয়ে মানসিকভাবে অনেক শক্তিশালী হতে হবে। আমরা ওদিক দিয়ে পিছিয়ে গিয়েছিলাম মনে হয়। উইকেট আনপ্লেয়বল হলে গায়ে লাগত, ইনজুরি হতো।’
প্রশ্ন আছে আরও। মুশফিককে কেন চার নম্বরে না নামিয়ে মোহাম্মদ মিঠুনকে নামানো হলো? ‘টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত’Ñ জানালেন মুমিনুল।
টেস্ট ৫ দিনের। কিন্তু প্রথম দিনেই দ্বিতীয় ইনিংস শুরু হয়ে গেছে। বাংলাদেশের চেয়ে মোটে ৬৪ রানে পিছিয়ে ভারত। এই টেস্টে নিজেদের কী ভবিষ্যৎ দেখছেন মুমিনুল? ‘প্রথম ইনিংসে ১৪০ (আসলে ১৫০) করার পর খুব কঠিন সব। যত ভালোই করেন, যত ইতিবাচক চিন্তা করেন। দিন শেষে ওরা প্রায় ৯০ করেছে।’ বাস্তবতা মেনে নিয়ে অধিনায়ক জানিয়ে যান, ‘ভবিষ্যৎ চিন্তা করলে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি।’
