কিংবদন্তির ‘জন্ম’ হয়েছিল আজ

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ০১:০৪ এএম

আজ ১৫ নভেম্বর। ৩০ বছর আগে, ১৯৮৯-এর এই দিনে নতুন কিংবদন্তির ‘জন্ম’ দেখেছিল ক্রিকেট বিশ্ব। টেস্ট অভিষেক হয়েছিল শচীন টেন্ডুলকারের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রথম পা রাখার স্মৃতি নিয়ে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রায় ২৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১০০টা সেঞ্চুরির মালিক বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন পার্থের সেঞ্চুরিকে। বর্তমান ক্রিকেটে ক্লাস বোলারের সংকট নিয়েও কথা বলেছেন শচীন...

৩০ বছর আগে জীবনের প্রথম টেস্টে (পাকিস্তানের করাচিতে, ১৯৮৯ সালের ১৫ নভেম্বর) প্রথম রান পাওয়ার মুহূর্তের কথা বা বোলারের নাম মনে আছে?

শচীন টেন্ডুলকার : খুব ভালো মনে আছে। অন ড্রাইভ করে বাউন্ডারি পেয়েছিলাম। ওটাই আমার ফার্স্ট স্কোরিং স্ট্রোক। বোলার ছিল ওয়াকার ইউনিস। আমার মতো ওরও ওটা অভিষেক টেস্ট ছিল। মনে হচ্ছে, এই তো সেদিন পাকিস্তান গিয়েছিলাম। কত জলদি ৩০টা বছর কেটে গেল।

অভিষেক টেস্টের আগের রাতে ঘুমোতে পেরেছিলেন? কখন জানতে পারলেন আপনি করাচিতে সিরিজের প্রথম টেস্টেই খেলবেন?

শচীন : একেবারে সাউন্ড স্লিপ বলতে যা বোঝায়, তা হয়নি। উত্তেজনায় ছটফট করছিলাম বিছানার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। আগের দিন প্র্যাকটিসের সময় অধিনায়ক কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত এবং ম্যানেজার চাঁদু বোরদে স্যার একসঙ্গে এসে আমায় জানিয়েছিলেন খেলার কথা। প্রত্যাশা ছিল যে, প্রথম টেস্টেই আমাকে খেলানো হবে। কারণ, তার আগে প্র্যাকটিস ম্যাচে আমি ভালো খেলেছিলাম।

আগের দিন সন্ধ্যেয় টিম মিটিংয়ে বিশেষ কোনো বার্তা?

শচীন : ওটা রুটিন মাফিক টিম মিটিং ছিল। সেখানে আলোচনা হয়েছিল স্ট্র্যাটেজি নিয়ে। কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটার বড় পার্টনারশিপ গড়ার কথা বলেছিল। বলেছিল, কেন মন দিয়ে ফিল্ডিং করা উচিত। রিভার্স স্যুইংয়ের জন্য বলের দেখাশোনা করার ব্যাপারটাও আলোচনায় ছিল।

প্রথম টেস্ট ক্যাপ পাওয়ার মুহূর্ত? ইমরান খান এবং ওয়াসিম আকরামকে অভিষেক টেস্টে খেলার জন্য বিশেষ কোনো অনুভূতি?

শচীন : জীবনে তো আর কিছু চাই না। চেয়েছিলাম শুধু দেশের হয়ে খেলতে। ওটাই ছিল আমার জীবনের আলটিমেট টার্গেট। টেস্ট ক্যাপ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মনে হয়েছিল লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে গেলাম। ইমরান-ওয়াসিম দুজনেই বিশ্বমানের ক্রিকেটার। পাকিস্তান ক্রিকেটে এই দুজনের অপরিসীম অবদান। জানতাম ওদের বিরুদ্ধে ব্যাট করাটা বড় চ্যালেঞ্জ। ভেতরে ভেতরে চ্যালেঞ্জটা নিয়েছিলাম। নিজের যোগ্যতার জন্য চ্যালেঞ্জ সামলানোর ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসীও ছিলাম।

টেস্ট অভিষেকের দিন সকালের কোনো স্মৃতি আছে?

শচীন : মনে আছে, সলিল আঙ্কোলা ছিল আমার রুম পার্টনার। দুজনেরই অভিষেক হয়েছিল ওই টেস্টে। দুজনেই সুপার এক্সাইটেড ছিলাম। আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার ব্যাপারটাই অন্য পর্যায়ের। ঘরোয়া ক্রিকেটে মাঠে অনেক ঘণ্টা কাটালেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলাটা অন্য অভিজ্ঞতা। প্রথম দিনের খেলার শেষে আমি শারীরিকই নই, মানসিকভাবেও নিঃশেষ হয়ে পড়েছিলাম।

প্রথম দিন লাঞ্চের সময় কিছু খেতে পেরেছিলেন? সন্ধ্যেবেলায় নিশ্চয়ই হোটেল থেকে বেরিয়ে বাইরে ডিনার করেছিলেন?

শচীন : টেনশনটা প্রথম দু’ঘণ্টায় কিছুটা কমে গিয়েছিল। প্রথমে ফিল্ডিং করার জন্য হয়তো। লাঞ্চে ভালোই খেয়েছিলাম। অসাধারণ এবং সুস্বাদু মেন্যু ছিল। গোটা সফর জুড়েই চমৎকার সব খাবার থাকত আমাদের ড্রেসিংরুমে। তবে হোটেল থেকে বেরোইনি। ফিল্ডিং করার কারণে এতটাই ক্লান্ত ছিলাম যে হোটেলের লবি পর্যন্তও যাইনি। ঘরে গিয়ে বিশ্রাম, ডিনার ও ঘুমÑ এটাই ছিল অভিষেক টেস্টের রাতের রুটিন।

প্রথম দিন ব্যাট করতে হয়নি। সে রাতে ঘুম এসেছিল?

শচীন : প্রথম দিন খেলার শেষে এতটাই ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলাম যে, হোটেলে ফিরেই বিছানায় চলে গিয়েছিলাম। ঘণ্টা দুয়েক ঘুমিয়ে ডিনার অর্ডার করে আবার ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।

অভিষেক টেস্টের ব্যাটটার কথা মনে আছে?

শচীন : আছে। ওটা ছিল বিবেক রাজদানের ব্যাট। বরাবরই ভারী ব্যাটে খেলতে পছন্দ করি। ব্যাট সুইংয়ে সুবিধে হয়। বিবেকের ব্যাটটা ভারী ছিল। তাই করাচিতে ওই ব্যাট নিয়েই নেমেছিলাম।

কীভাবে অভিষেক টেস্টের ৩০তম বর্ষপূর্তি পালন করবেন?

শচীন : আমি মুম্বাইয়ে থাকব না। নেপালে যাব ইউনিসেফের দূত হয়ে। গোটা বিশ্বজুড়ে অনাথ শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য উদ্যোগ নিয়েছে ইউনিসেফ। আমি তাদের সঙ্গে জুটি বেঁধেছি। ১৫ নভেম্বর নেপালে ‘কনভেনশন অন দ্য রাইটস অফ দ্য চাইল্ড’ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যেতে হবে। ওই টেস্ট ঘিরে প্রচুর সুখস্মৃতি রয়েছে। অসাধারণ সব স্মৃতি। জীবনের বাঁকে বাঁকে প্রচুর মানুষের সহযোগিতা পেয়েছি। যাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। দেশের হয়ে ২৪ বছর টানা খেলে যাওয়াটা বিশাল সম্মানের। আমি ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসতাম আর ক্রিকেটপ্রেমীরা আমার খেলা দেখতে চাইতেন। ওদের ভালোবাসা আমার জীবনে এক বিশাল টনিক ছিল। যখনই খেলতাম, দর্শক সমর্থন থাকত আমার সঙ্গে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত