বিটিআরসিকে ১ম দফায় ২০০ কোটি টাকার প্রস্তাব জিপির

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ০১:৩৫ এএম

যন্ত্রপাতি আমদানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিরীক্ষা দাবির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার মধ্যে শর্ত সাপেক্ষে আপাতত ২০০ কোটি টাকা টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে (বিটিআরসি) দিতে চায় গ্রামীণফোন। বিটিআরসির দাবি, আলোচনা শুরুর আগে মোট পাওনার ৫০ ভাগ পরিশোধ করুক গ্রামীণফোন। এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশ ১৮ নভেম্বর ধার্য করেছে আপিল বিভাগ।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বেঞ্চে এই দুই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা এমন প্রস্তাব করেন। সর্বোচ্চ আদালতে গ্রামীণফোনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ এম আমিনউদ্দিন ও শেখ ফজলে নূর তাপস। বিটিআরসির      

পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাহবুবে আলম, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব। এর আগে বিটিআরসির পাওনা দাবির মধ্যে গ্রামীণফোন কত দিতে পারবে তা জানাতে দুই দফা সময় দেয় আপিল বিভাগ।

শুনানিতে তাপস বলেন, গত ৩ অক্টোবর দুই অপারেটরের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর সমঝোতা বৈঠকে বিটিআরসির আরোপিত প্রতিবন্ধকতাগুলো তুলে নেওয়াসহ বিভিন্ন শর্তে ২০০ কোটি টাকা পরিশোধের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, গ্রামীণফোন সেভাবেই এগোতে চায়।

ওই বৈঠকে দুই পক্ষ একটি কমিটি গঠন করে পাওনা পরীক্ষা অথবা পরীক্ষার পদ্ধতি বের করবে। বিটিআরসি লাইসেন্স বাতিলের কারণ দর্শানোর নোটিস ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে; অন্যদিকে অপারেটররা মামলা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেবে। অর্থমন্ত্রী, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী, এনবিআর ও বিটিআরসির চেয়ারম্যান কমিটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে রাখবেন। কমিটি গঠন ও এর কাজ শুরুর আগে সাত দিনের মধ্যে গ্রামীণফোন ১০০ কোটি টাকা ও পরের এক মাসের মধ্যে ১০০ কোটি টাকা বিটিআরসিকে দেবে; রবি দেবে দুই দফায় ৫০ কোটি টাকা। এসব প্রস্তাব দুই অপারেটর তাদের যথাযথ কর্র্তৃপক্ষের কাছে পর্যালোচনা ও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করবে।

মাহবুবে আলম এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আদালতকে বলেন, ‘অন্তত পাওনার ৫০ ভাগ অর্থ গ্রামীণফোন জমা দিতে হবে। এরপর বাকি অর্থ পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।’ এ সময় তিনি বিটিআরসির বিপক্ষে যাওয়া হাইকোর্টের আদেশ স্থগিতের আরজি জানালে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘নমনীয়ভাবে দেখতে হবে।’

উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে সর্বোচ্চ আদালত এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী সোমবার (১৮ নভেম্বর) দিন ধার্য করে।

গত ১৭ অক্টোবর এক আদেশে গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির ওই পাওনা আদায়ের ওপর দুই মাসের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করে হাইকোর্ট। এ আদেশের বিরুদ্ধে বিটিআরসি গত ২০ অক্টোবর আপিল বিভাগে আবেদন করে।

বিটিআরসির আবেদনে বলা হয়, যন্ত্রপাতি আমদানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রামীণফোনের কাছে নিরীক্ষা আপত্তি বাবদ ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ ও রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা বিটিআরসির পাওনা রয়েছে। সেই পাওনা আদায়ে ব্যর্থ হলে ওই দুটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়ে নোটিস পাঠানো হয়।

১৯৯৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যন্ত্রপাতি আমদানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির পাওনা ও এর সুদ বাবদ এই টাকা দাবি করে গত ২ এপ্রিল চিঠি পাঠায় বিটিআরসি।

এ বিষয়ে সুরাহা না হওয়ায় বিটিআরসির পাওনার বিষয়ে গত আগস্টের শেষ সপ্তাহে ঢাকার সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি আদালতে স্বত্বের মামলার (টাইটেল স্যুট) আবেদন করে গ্রামীণফোন। সেই আবেদনটি গৃহীত হয়ে আদালতে বিচারাধীন। ওই আবেদনের অধীনে বিটিআরসির পাওনা আদায়ের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানানো হলে গত ২৮ আগস্ট নিম্ন আদালতে সেটি খারিজ হয়ে যায়। পরে ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে গ্রামীণফোন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত