অনলাইনে সক্রিয় প্রশ্নফাঁস চক্র

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ০২:৩৭ এএম

আগামীকাল রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা। এ পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে সরকার। বরাবরের মতো এ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে প্রশাসন কড়াকড়ি অবস্থান নিয়েছে। এরপরও ফেইসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র দেওয়ার একাধিক চক্রকে সক্রিয় দেখা গেছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা প্রশ্নপত্র পেতে ইনবক্সে যোগাযোগ করতে বলছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরাও আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রশ্ন ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। প্রতারক চক্রকে ধরতে প্রশাসন কাজ করছে।

২৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এ পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ২৯ লাখ ৩ হাজার ৬৩৮ জন। সারা দেশে মোট ৭ হাজার ৪৭০টি কেন্দ্রে এবং দেশের বাইরে আটটি দেশে ১২টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ পরীক্ষা সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক গ্রুপ খোলা হয়েছে। বিভিন্ন ফেইসবুক আইডি থেকে প্রশ্নপত্র দেওয়ার কথা বলে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের কাছে টাকা চাওয়া হচ্ছে। এ ধরনের ফেইসবুক গ্রুপÑ ‘পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি এক্সাম কোয়েশ্চন আউট ১০০% কমন’, ‘পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি, বিএ/মাস্টার্স, নিবন্ধন অ্যান্ড মেডিকেল এক্সাম, কোয়েশ্চন অল বোর্ড’, ‘পিএসসি টু মাস্টার্স মেডিকেলস অ্যান্ড নিবন্ধন এক্সাম ১০০% রিয়েল প্রশ্ন অল বোর্ড’ থেকে প্রতারক চক্রের সদস্যরা কিছুক্ষণ পরপর পোস্ট দিচ্ছে। একটি গ্রুপে মুশতাশ মিশতা নামের ফেইসবুক আইডি থেকে পোস্ট করে বলা হয়েছে, ‘অনলি ঢাকা বোর্ড, প্রশ্নফাঁস! প্রশ্নফাঁস! 

 

প্রশ্নফাঁস! পিইসি পরীক্ষার প্রশ্ন আউট হতে চলেছে... কেউ প্রশ্নগুলা মিছ কইরো না, যাদের হেল্প লাগবে, তারা ইনবক্সে মেসেজ দাও, নো অ্যাডভান্স’।

তোফাজ্জেল রহমান নামে আরেক আইডি থেকে পোস্ট করে বলা হয়েছে, যাদের পিইসি প্রশ্ন লাগবে ইনবক্স করো। অভি নামে একজন পোস্ট করে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পিইসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র চেয়েছে।

এসব পোস্টে বিপুলসংখ্যক ফেইসবুক ব্যবহারকারী এনগেজ হচ্ছে। তারা লাইক ও মন্তব্য করে আপডেট থাকার চেষ্টা করছে। অনেকেই কমেন্ট বা ইনবক্সে বোর্ড আর বিষয়ের নাম জানাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কয়েক বছর আগেই তো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। ইদানীং তেমন শোনা যাচ্ছে না। তারপরও বলা যায় না। এজন্য ফেইসবুকে চোখ রাখছি।’

তবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম আল হোসেন। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা থেকেই এমসিকিউ গত বছর থেকে বাতিল করা হয়েছে। এরপরও আমরা সতর্ক রয়েছি। কঠোর নিরাপত্তায় প্রশ্নপত্র ট্রেজারিতে পাঠানো হয়েছে। গোপনীয়তা রক্ষা করে কেন্দ্রে পাঠানো হবে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই। প্রতারক চক্রকে ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে।’

আর গত বৃহস্পতিবার পরীক্ষার প্রস্তুতিসংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন, ‘সমাপনী পরীক্ষা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্নে যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ ও বিতরণ পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার দিনও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা থাকবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত