‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই জন নিহত

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ০২:৫২ এএম

কক্সবাজারের টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক রোহিঙ্গা মাদক পাচারকারী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ)। তারা বলছে, গতকাল শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদাছ্যুরি খালের কেওড়াবাগানে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নুর কবির (২৮) মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার মংডু থানার মোতালেবের ছেলে। ঘটনাস্থল থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা এবং অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে নরসিংদীর শিবপুরে গ্রেপ্তার ডাকাত সর্দার রাজ্জাক মিয়া (৩৯) বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান জানিয়েছেন, গতকাল রাতে বিজিবির লেদা সীমান্ত চৌকির একটি বিশেষ টহল দল লেদাছ্যুরি খালের পাশের বেড়িবাঁধ এলাকায় যায়। এ সময় কেওড়াবাগানে তিন-চারজনকে মাটি খুঁড়তে দেখা যায়। তারা কালো পলিথিনে মোড়ানো একটি বস্তা মাটির নিচ থেকে বের করছিল। তখন এগিয়ে গেলে তারা বিজিবিকে লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি ছোড়ে। এতে দুই বিজিবি সদস্য আহত হন। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি ছোড়ে। দুপক্ষের মধ্যে ৮ থেকে ১০ মিনিট গোলাগুলি হয়। একপর্যায়ে ইয়াবা পাচারকারীরা পালিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, পরে বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা, একটি দেশীয় বন্দুক, দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। আহত বিজিবির দুই সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে শিবপুর থানার ওসি মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে তেলিয়া শ্মশানঘাটে ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ নিহত ডাকাত সর্দার রাজ্জাক উপজেলার ধানুয়া গ্রামের মৃত রফিজউদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে নরসিংদী ও শিবপুরসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা ও ডাকাতিসহ ১৬টি মামলা রয়েছে।

ওসি বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে রাজ্জাক মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে তাকে নিয়ে সহযোগীদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। এ সময় রাজ্জাকের সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় উভয়পক্ষে গোলাগুলি হয়। তখন পালানোর সময় দুপক্ষের মধ্যে পড়ে রাজ্জাক গুলিবিদ্ধ হয়। পরে পুলিশের তিন সদস্যসহ আহতদের নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজ্জাককে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় পাইপগান, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও চারটি রামদা উদ্ধার করা হয় বলে জানান ওসি।

এদিকে গতকাল সকালে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে রাজ্জাকের স্বজনরা অভিযোগ করেন, পুলিশ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে তাকে গুলি করে হত্যার পর বন্দুকযুদ্ধের দাবি করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত