দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা এখন কী করেন সেটা দেখার অপেক্ষায় সবাই। আর গতকাল ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানো ভারতের ওপেনার মায়াঙ্ক আগারওয়াল যা বললেন তাতে সফরকারী ব্যাটসম্যানরা আশাবাদী হতেই পারেন। তার মতে, উইকেট যথেষ্ট ব্যাটিং উপযোগী এখন
‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) যেমন ছিল সেই তুলনায় উইকেট এখন ঠিক হয়েছে। ব্যাট করার জন্য ভালো হয়ে উঠেছে। কারণ ভালো বাউন্স দেখা যাচ্ছে এবং শটের মূল্য পাবেন ওখানে।’ ভারতের প্রথম ইনিংসে ২৪৩ রানের ইনিংস খেলা আগারওয়াল ইন্দোর টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলে জানালেন এই কথা।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ১৫০ রানে অল আউট হয়েছিল টস জিতে ব্যাট করতে নেমে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অভিষেক ম্যাচে মুমিনুল হকের অনভিজ্ঞ দল তাই সামনের ব্যাটিং নিয়ে দুশ্চিন্তায়। এর মধ্যে ৬ উইকেটে ৪৯৩ রান তুলেছে ভারত। ৩৪৩ রানের লিড এর মধ্যে।
তবে গতকাল সকালের সেশনে চেতেশ্বর পুজারাকে ফিফটি পেরোনোর পর এবং অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে ০ রানে আউট করতে পেরেছিল বাংলাদেশ। বোলার ছিলেন পেসার আবু জায়েদ রাহী। ইনিংসে ৪ উইকেট তার। আগারওয়াল সামনে থেকে ব্যাটিংয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এরপর আর পিছু ফিরে দেখতে হয়নি তাদের। তাহলে কি বাংলাদেশের বোলিং খুব খারাপ হয়েছে পরে?
আগারওয়াল বললেন, ‘সকালে ফাস্ট বোলারদের জন্য কিছু ছিল। কারণ সকালের ময়েশ্চার। তারা ভালোই বল করছিল। শুরুতে টাইট ছিল। আমরা আলগা বল পেলেই মেরেছি। চাপ কমাতে ওটাই আমাদের পথ ছিল।’ এর সঙ্গে আগারওয়াল যোগ করলেন, ‘পরের দিকে পিচ তাদের সহায়তা করেনি। আমরা সেটা কাজে লাগিয়েছি।’
তিনটা জুটি গড়েছেন আগারওয়াল। ৯১, ১৯০ ও ১২৩ রানের। নিজে আউট হয়েছেন দলের ৪৩২ রানের সময়। ৩৩০ বলে ২৮ চার ও ৮ ছক্কায় করেছেন ২৪৩। এটা তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। গেল চার ম্যাচে তিন সেঞ্চুরি, যার দুটি ডাবল। ক্যারিয়ার মোটে আট ম্যাচের। ১২ ইনিংস। ডানহাতি ব্যাটসম্যানের এখন ৭১.৫০ গড়ে ৮৫৮ রান।
গতকাল ছক্কা মেরে ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছেছেন আগারওয়াল। পরিকল্পনা করেই সেটা করেছেন কি না সেই প্রশ্নে ২৮ বছরের কর্ণাটকের খেলোয়াড় বললেন, ‘এমনটা ভাবিনি। ৪/৫ ওভার সময় নিয়ে সুযোগ না পেলে ১, ১, ১, ১ করে পৌঁছাতে চেয়েছিলাম। কারণ তখন ১৯৬ রানে ব্যাট করছিলাম। আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। আমার নাগালে একটা বল পেয়ে সেটাকে ছক্কা মেরে দিলাম।’
৮০-এর ঘরে এলবিডব্লিউর জন্য আম্পায়ার আউট দিয়েছিলেন। দেরি না করে রিভিউ নিয়ে বেঁচেছেন। আর সেটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এক টেস্টে বোকামির দণ্ড দিয়ে শেখা তার, ‘প্যাডে লাগলে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছিল আমি আউট নই। কিন্তু আউট দিয়ে দিলে দ্রুত একটা ফ্ল্যাশব্যাকে চলে গিয়েছিলাম। ওয়েস্ট ইন্ডিজে এভাবেই রোস্টন চেজের কাছে এলবিডব্লিউ হয়েছিলাম। তাই নিজেকে বলেছিলাম, আবার ভুল করা যাবে না। আমি খুব খুশি ও সুখী যে বলটা মিস করত। অবশ্য একপর্যায়ে মনে হয়েছিল এটা আম্পায়ার কল এবং আমি শেষ।’
প্রথম দিন মায়াঙ্ক যখন ৩২ রানে ব্যাট করছিলেন তখন আবু জায়েদের বলে সিøপে তার ক্যাচ ফেলেছিলেন ইমরুল কায়েস। সেই প্রসঙ্গে গতকাল তিনি বলেন, ‘এটা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই কিন্তু আমি তখন ভাবছিলাম যদি একটা সুযোগ পাই, তবে তা কাজে লাগবই। এভাবে কেউ সুযোগ দিলে তার একটা চড়া মূল্য পাওয়াটা নিশ্চিত করতে হয়।’
