এখন মনোযোগ গোলাপি বলে

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০২:৫৭ এএম

ইন্দোরে বসে কলকাতার আবহ বোঝার উপায় নেই। কিন্তু গতকাল হোলকার স্টেডিয়ামে ৫ দিনের টেস্ট ম্যাচ ৩ দিনে শেষ হতেই সাংবাদিকদের পুরো মনোযোগ ঘুরে গেল ইডেন গার্ডেনসের দিকে। বাংলাদেশ প্রথম টেস্টে ম্যাচের নির্ধারিত বাকি দু’দিন খেলতে পারলে এমন হতো না। লাল বলের ম্যাচ শেষ করে ভারত-বাংলাদেশ দুই দলও ঢুকে পড়ল গোলাপি বলে কৃত্রিম আলোর টেস্টে। ২২ নভেম্বর যেটির শুরু হওয়ার কথা। ইনিংস ও ১৩০ রানের হার শেষ সেশনের এক ঘণ্টা বাকি থাকতে নিশ্চিত হলো। তার ঘণ্টাখানেক পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মিডিয়া বিভাগ জানিয়ে দিল, ইন্দোরকে পেছনে ফেলে এখন কলকাতায় চোখ জাতীয় দলের। জানানো হলো, আজ বিকেল ৪টা থেকে হোলকার স্টেডিয়ামে হবে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন। নিশ্চিতভাবে যেটা গোলাপি বলের। তবে এটা ঐচ্ছিক। দেখার বিষয় অজানা-অচেনা বিষয়ের পরীক্ষা সামনে এগিয়ে আসার সময়টাতে ঐচ্ছিককে বাংলাদেশের কয় ক্রিকেটার বাধ্যতামূলক করে নেন নিজের জন্য।

ম্যাচের শেষে সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধি হয়ে আসা দুজনের একজন ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোর। ভদ্রলোক যেতে যেতে জানিয়ে গেলেন, ‘ভারত দল ফ্লাডলাইটের নিচে বাকি দুদিন গোলাপি বলে প্র্যাকটিস করবে।’ তবে সবাই নয়। আদায় করে নেওয়া ছুটিটা কেউ কেউ পরিবারের সঙ্গে উপভোগ করবেন।

বাংলাদেশের প্র্যাকটিস শুরুর সময় ৪টা। তবে প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো আগে বলেছিলেন, ঠিক সূর্যাস্তের পর থেকে আঁধার নেমে আসার সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। গোলাপি বলে ওই সময়ে ব্যাটিং প্র্যাকটিস করা জরুরি। সেটা আজ না আগামীকাল না কলকাতায়, জানা যাবে সময় মতো।

খবর নিয়ে জানা যায়, কলকাতায় এখন গোলাপি বলের টেস্টের প্রস্তুতি নিয়ে দারুণ ব্যস্ততা। ইডেনের উইকেটকে ইন্দোরের চেয়ে সবুজ লাগছে দেখতে। সত্যিকার অর্থে গ্রিন টপ উইকেট বানানোর মতো মোক্ষম অবস্থায় আছে সেটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী হবে তা নিশ্চিত না এখনো। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি জানিয়েছেন, ‘ভালো উইকেট হবে।’

এমনিতে তিন পেসারে সাজানো সম্ভবত বর্তমান বিশ্বের সেরা ভারতীয় পেস আক্রমণ নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। ইডেনে চার পেসার খেলানোর সম্ভাবনা খুব দেখা যাচ্ছে না। তবে সেটা সম্ভব কি না তা নিয়ে ভারতীয় সাংবাদিকদের মধ্যে অনুসন্ধিৎসা দেখা গেল এখানে। কোকাবুরায় নয়, ভারত ও বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো দিবারাত্রির টেস্ট খেলবে এসজি’র গোলাপি বলে। কোকাবুরায় নাকি স্পিনারদের জন্য একদম সহায়তা থাকে না। এসজিতে তা বেশ মেলে। ভারত এখন ফাস্ট বোলিংয়ে দাপট দেখালেও স্পিনারদের তো অস্বীকার করতে পারে না।

মুমিনুলের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল গোলাপি বলে যেহেতু পেসাররা বেশি সুইং পায় তাই ও নিয়ে কী ভাবছেন। হেসে জানান অধিনায়ক, ‘আমরা যে সুইংয়ে খেলেছি, এর চেয়ে বেশি সুইং মনে হয় না হবে! অনেক বেশি সুইংয়ে ভালো প্র্যাকটিস হয়ে গেছে বলে আমার কাছে মনে হয়। হয়তো একটু চ্যালেঞ্জ থাকবে, চ্যালেঞ্জটা একটু ভালোভাবে নেওয়া উচিত। ইতিবাচকভাবে নিতে হবে।’ দলের সবার এখনো গোলাপি বলে সামান্য অনুশীলনের সুযোগ মেলেনি। তবে গোলাপি বলের চ্যালেঞ্জ নিতে মুমিনুলের মনে হচ্ছে, ‘আন্ডার লাইটে যতটুকু প্র্যাকটিস করা যায় ততটা ভালো।’

মোস্তাফিজুর রহমানকে খেলানো হয়নি এখানে। বাঁহাতি পেসারে সংকটে ভোগেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। গোলাপি বলে সেই সুযোগ আরও বেশি নেওয়া যাবে। নিশ্চিত করে অবশ্য কিছু জানালেন না অধিনায়ক, ‘আমাদের হাতে তো তেমন সময় নেই। গোলাপি বলে অনুশীলন করা উচিত সবার। আর মুস্তাফিজের ব্যাপারে এখন বলা কঠিন।’

ওদিকে ভারতের বোলিং কোচ ভরত অরুণ জানালেন, ‘গোলাপি বল আমাদের জন্য একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা। আমাদের স্পিনাররা বিশ্বের ১ ও ২ নম্বর। তারা যেটা জানে সেটা ব্যবহার করার কাজে সহায়তা করি। এটা যেহেতু একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা তাই সময়ের সঙ্গে আমরা বুঝে যাব যে গোলাপি বলে কীভাবে বল করতে হয়।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত