মাছের প্রকল্প গিলে খাচ্ছে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলো। মৎস্য প্রকল্প করার ক্ষেত্রে সড়কের পাশে আলাদা বেড়ি (প্রটেকশন বাঁধ) করার নিয়ম থাকলেও তা কেউ মানছে না এখানে। প্রকল্পের মালিকরা সরকারি রাস্তা বেড়ি হিসেবে ব্যবহার করলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি রাস্তা মৎস্য প্রকল্পের বেড়ি হিসেবে ব্যবহার ও কালভার্টের মুখ বন্ধ করে পানিনিষ্কাশন পথে প্রতিবন্ধকতা করে গড়ে উঠেছে এখানকার মৎস্য প্রকল্পগুলো। বর্ষা মৌসুমের পানি চলে গেলেও কৃত্রিমভাবে প্রকল্পের ভেতরে পানি আটকে রাখা হয়। ফলে সড়কের একপাশে পানি এবং অন্য পাশে না থাকায় একদিকের পানি চুইয়ে সড়কগুলো আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে প্রথমে ফাটলের সৃষ্টি হয়। ফাটলগুলো ধীরে ধীরে বড় হয়ে ধসে পড়তে থাকে প্রকল্পের দিকে।
উপজেলার গৌরীপুর, জিংলাতুলী, সুন্দুলপুর, ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ও ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের বেশির ভাগ কাঁচা-পাকা ও ইটের গ্রামীণ সড়ক হুমকির মুখে আছে। গৌরীপুর বাজার-আমিরাবাদ সড়ক, আঙ্গাউড়া-স্বল্পপেন্নাই সড়ক, গৌরীপুর গ্রাম-জিংলাতুলী সড়কসহ অন্তত অর্ধশতাধিক কাঁচা-পাকা সড়ক এরই মধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। এসব সড়কে যান চলাচল এখন ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে গৌরীপুর-আমিরাবাদ সড়কটি পাকাকরণের কাজ চলা অবস্থায় খালে ভেঙে পড়লে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ে এলাকাবাসী।
দাউদকান্দি নাগরিক সমাজের উপজেলা আহ্বায়ক মতিন সৈকত বলেন, সরকারি রাস্তা মৎস্য প্রকল্পের বেড়ি হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে একসময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তখন মানুষকে আরও ভোগান্তির শিকার হতে হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী আহসান আলী বলেন, প্রকল্প মালিকরা সড়ককে বেড়িবাঁধ হিসেবে ব্যবহার করে মাছ চাষের ফলে সড়ক ভেঙে যাচ্ছে। সড়ক থেকে ছয় ফুট দূরত্বে পৃথক বেড়ি নির্মাণ করে মাছ চাষের নিয়ম থাকলেও প্রকল্প মালিকরা তা মানছেন না। কয়েক দিন আগে গৌরীপুর বাজার-আমিরাবাদ সড়কটি কার্পেটিং কাজ চলমান অবস্থায় একপাশে দেবে গেছে। কারণ হলো এক পাশে খাল থাকায় বর্ষার পানি শূন্য হয়ে গেছে, আরেক পাশে মৎস্য প্রকল্পের পানি আটকে রাখার কারণে এটা হয়েছে। ধসে পড়ার ভয়ে ঠিকাদাররাও এখন টেন্ডারে অংশ নিতে চান না।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন চৌধুরী বলেন, ‘প্রকল্পের চাষিরা তাদের ব্যক্তিগত জমিতে মাছ চাষ করেন, এখানে আমার কিছু করার নেই। আমার কাজ হলো মৎস্য উন্নয়ন করা, রাস্তা-ঘাট কী হলো, সেটা আমার কাজ না।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম খান বলেন, উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় সাংসদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এখন থেকে নতুন কোনো প্রজেক্ট চালু করার আগে প্রটেকশন বাঁধ না করলে আমরা ওই প্রকল্পের অনুমোদন দেব না।
