১/১১-এর দুর্নীতি মামলা

মীর নাছিরের ১৩ বছর সাজা বহাল হাইকোর্টে

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৯, ১২:৪১ এএম

দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিনের

১৩ বছর এবং তার ছেলে ব্যারিস্টার মীর হেলালউদ্দিনকে দেওয়া তিন বছর কারাদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রায়ের অনুলিপি বিচারিক আদালতের পৌঁছানোর পর তিন মাসের মধ্যে তাদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এ কে এম আবদুল হাকিম ও বিচারপতি ফাতেমা নজীবের হাইকোর্ট বেঞ্চ সাজার বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল খারিজ করে এ রায় দেয়।

আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান আপিল শুনানি করেন। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, এ রায়ের বিরুদ্ধে চাইলে আসামিরা সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন। তবে আপিলের আগে তাদের বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

আলোচিত ওয়ান-ইলেভেনের সময় ২০০৭ সালের ৬ মার্চ অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মীর নাসির ও তার ছেলে মীর হেলালের বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা করে দুদক। এতে তাদের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২২ লাখ ১১ হাজার টাকার সম্পত্তির তথ্য গোপন এবং ২৯ কোটি ২৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।

সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৪ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত মীর নাসিরকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ১০ বছর; সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর বাবাকে দুর্নীতিতে সহযোগিতা করায় মীর হেলালকে তিন বছরের কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত।

এরপর এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে, শুনানি নিয়ে ২০১০ সালের ১০ আগস্ট মীর নাসির ও একই বছরের ২ আগস্ট মীর হেলালের সাজা বাতিল করে রায় দেয় হাইকোর্ট। পরে হাইকোর্টের রায় বাতিল চেয়ে আপিল করে দুদক। ২০১৪ সালের ৪ জুলাই দুদকের আবেদন মঞ্জুর করে হাইকোর্ট দুজনের সাজা বাতিল করে যে রায় দিয়েছিল, তা সর্বোচ্চ আদালতে বাতিল হয়ে যায়। একই সঙ্গে মামলাটি হাইকোর্টে পুনঃশুনানির (রিমান্ড) জন্য পাঠিয়ে দেয় আপিল বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় শুনানি শেষে গতকাল এ রায় দিল হাইকোর্ট।

দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, ‘পুনঃশুনানি শেষে হাইকোর্টের রায়ে তাদের সাজা ও জরিমানা বহাল রয়েছে। রায়ের অনুলিপি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২ গ্রহণ করার দিন থেকে তিন মাসের মধ্যে তারা আত্মসমর্পণ এবং আপিল করার সুযোগ পাবেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত