সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবসম্মত হয়নি দাবি করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্টক হোল্ডারদের নিয়ে আলোচনায় বসে এই আইন প্রণয়ন করা উচিত ছিল। তাহলে আজ এই সংকট তৈরি হতো না।
বুধবার সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়িস্থ পৈতৃক বাসভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
এসময় মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে। তাই দেশে এ সময়ে চাল, পেঁয়াজ ও লবণ সংকট দেখা দিয়েছে। দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে সরকার। দুঃশাসনের জাঁতাকলে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় গণ-অভ্যুত্থান।
তিনি বলেন, দেশের চলমান সমস্যার দিকে সরকারের মনযোগ নেই। বড় বড় মেগা প্রজেক্ট তৈরি করে কীভাবে জনগণের টাকা লুট করা যায় এ নিয়ে তারা ব্যস্ত। কোটি কোটি টাকা লুট করে তারা বিদেশে পাচার করছে। এসবের প্রতিবাদে দাঁড়ালেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে তা পণ্ড করে দিচ্ছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দুর্নীতিতে দেশ ডুবে গেছে। দলীয় কর্মীদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈরাজ্য ও অপশাসন এবং উপাচার্যের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠনের নেতারা প্রতিবাদ করায় তাদেরও বের করে দেওয়া হয়েছে। কারণ উপাচার্যের নাকি রাজকীয় পরিবারের সঙ্গে মিল মহব্বত রয়েছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ৫২ থেকে ৯০’র গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রসমাজের ভূমিকা ছিল অগ্রে। দেশের এ পরিস্থিতিতে ছাত্রসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। এ দেশের স্বাধিকার আন্দোলনে ভারতের অবদান রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ সরকার তিস্তাসহ দেশের নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দুই বছরেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সমস্যা নিরসন করতে পারেনি আওয়ামী লীগ সরকার। কূটনৈতিক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে ফ্যাসিবাদী এ সরকার।
খালেদা জিয়া বন্দিত্ব নিয়ে তিনি বলেন, সরকারের হীনমন্যতা আর দৈন্যর কারণে তাকে অন্যায় ভাবে আটক রাখা হয়েছে। গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসনকে মুক্ত করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল নয়। বন্যায় যেমন পদ্মা-মেঘনা-যমুনার দুই তীর ভাঙে, কিন্তু নদীর প্রবাহ ঠিক থাকে; বিএনপির গতি এ রূপ রয়েছে। সরকার বিএনপির পেছনে টিকটিকি লাগিয়ে দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে মাত্র।
এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
