নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বুধবার সকালে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শতাধিক কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬০ জনকে জেলার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথিমক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদ উল্যাহ খান সোহেল ও নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মেয়র শহিদ উল্যাহ খানের অনুসারীরা জজ আদালত সড়ক থেকে মিছিল নিয়ে শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছিলেন।
একই সময় একরামুল করিম তার অনুসারীদের নিয়ে সম্মেলনস্থলে যাচ্ছিলেন। নোয়াখালী টাউন হল মোড়ে উভয় পক্ষ মুখোমুখি হলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।
এক পর্যায়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে সম্মেলনের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড ভাঙচুর করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় পিয়াস (২৫) ও আরিফ (২৮) গুলিবিদ্ধসহ দুই পক্ষের শতাধিক আহত হয়েছেন।
একরামুল করিম বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে মেয়র শহিদও সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী বলে নেতাকর্মীরা জানান।
এ বিষয়ে মেয়র শহিদ বলেন, ‘বিনা উসকানিতে এমপি ও তার লোকজন আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে।’
তবে পাল্টা অভিযোগ করেন সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ সম্মেলনকে বানচাল করার জন্য তারা শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।’
জেলার পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন জানান, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
বেলা ১১টায় শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে সম্মেলন শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
সম্মেলনে একরামুল করিম আবারও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। আর সভাপতি পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন এ এইচ এম খায়রুল আনম সেলিম।
