ধর্ষণের পর স্বামীকে হত্যা

পরিবারকে হুমকি মামলা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০২:৩৮ এএম

জামালপুরে স্ত্রীকে দল বেঁধে ধর্ষণের পর স্বামীকে হত্যার ঘটনায় ভুক্তভোগী সেই গৃহবধূর পরিবারকে আসামিপক্ষের লোকজন হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে স্থানীয় শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আজিজুল হক চেষ্টা

চালাচ্ছেন বলেও গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ গতকাল বুধবার অভিযোগ করেন, মামলার একজন আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল ও আসামিপক্ষের লোকজন তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে চেয়ারম্যান আসামিদের পক্ষে কাজ করছেন।

গৃহবধূ বলেন, ‘তাদের সঙ্গে পেরে ওঠা অনেক কঠিন। তাদের হুমকিতে বাড়িতে কেউ থাকতেই পারছে না। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর শ্বশুর মো. ইমান আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনার আগে আসামিদের পরিবারের কারও সঙ্গে আমাদের কোনো পূর্ববিরোধ ছিল না। মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিপক্ষের লোকজন বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এ ছাড়া মীমাংসা করার জন্য তারা টাকার প্রস্তাব দিয়েছে। ঘটনার শুরু থেকে চেয়ারম্যান আজিজুল এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান আজিজুল বলেন, ‘আমি কাউকে কোনো হুমকি দিইনি। আমি হুমকি দিতে যাব কেন? কেউ যদি অপরাধ করে, তাদের শাস্তি আমিও চাই। কিন্তু কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হয় তা দেখা আমার দায়িত্ব।’

এর আগে গত সোমবার রাতে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ বাদী হয়ে ছানোয়ার হোসেন (৩৫), মো. শাওন (২৫) ও রফিজ উদ্দিনের (৪০) নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুজনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই দিন রাতেই পুলিশ মো. শাওনকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বাকি আসামিদের পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ সদস্যের কর্তব্যে অবহেলার বিষয়ে জামালপুরের পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এসআই মো. গোলজার আলমের বিরুদ্ধে কোনো  অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই গৃহবধূ বা তার পরিবারের সদস্যরা মঙ্গলবার রাতে অভিযোগ করার সঙ্গে সঙ্গে মামলা নেওয়া হয়। এর আগে তারা থানায় বা আমার কাছে কোনো অভিযোগ করেননি।’

এদিকে গৃহবধূকে ধর্ষণ ও তার স্বামীকে হত্যার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় পিবিআই জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সীমা রানী সরকার জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ওই গৃহবধূর সঙ্গে কথা বলেন।

সীমা রানী সরকার বলেন, ‘পিবিআই জেলা পুলিশকে সহযোগিতা করতে ও আসামি গ্রেপ্তারে কাজ করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত