১০ দিন ধর্মঘটেও চালের বাজারে প্রভাব পড়বে না : খাদ্যমন্ত্রী

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:১০ এএম

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, পরিবহন ধর্মঘট ১০ দিন চললেও রাজধানীর চালের বাজারে কোনো প্রভাব পড়বে না। চালের মূল্যবৃদ্ধিতে গতকাল বুধবার সচিবালয়ে চালকল মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

গতকাল সকাল থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ধর্মঘট। এছাড়া পরিবহন শ্রমিকদের ‘স্বেচ্ছা কর্মবিরতিতে’ গত কয়েক দিন ধরেই বেশ কয়েকটি জেলায় বন্ধ রয়েছে বাস

চলাচল। এর মধ্যেই সকাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কেও দূরপাল্লার বাস চলাচলে বাধা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পরিবহন ধর্মঘটের কারণে আগামী দিনগুলোতে চালের বাজারে কী প্রভাবে পড়বেÑ জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাত দিনও যদি পরিবহন ধর্মঘট থাকে, ১০ দিনও যদি থাকে, বাবুবাজারে যে স্টক থাকে, বড় বড় বাজারে যে স্টক থাকে, তাতে ঢাকার বাজারে (দাম বাড়ার) বিন্দুমাত্র কারণ নেই। তিন-চার দিন কেন, ১০ দিন বন্ধ থাকলেও প্রভাব পড়বে না, গ্যারান্টি দিলাম, আমার সোজা কথা।’

তিনি আরও বলেন, ‘চালের দাম বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। কেউ যদি বৃদ্ধির চেষ্টা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। যদি অনাহূত কেউ চালের দাম বাড়াতে চায়, তাহলে কোনোক্রমেই সহ্য করা হবে না, প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’ সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘২৬-২৭ টাকার মোটা চাল খুচরা বাজারে ৪ থেকে ৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, তাতে ভোক্তাদের “আঁতে ঘা” লাগছে। সরকার এটা চলতে দেবে না।’

ধর্মঘটের আগেই খুচরা বাজারে মিনিকেট চালের দাম ৩-৪ টাকা বৃদ্ধির বিষয়টি বৈঠকের শুরুতেই স্বীকার করে নেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘খুচরা বিক্রেতারা মিনিকেট প্রতি কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বৃদ্ধি করেছে, যা বাড়ানো উচিত হয়নি। চেষ্টা করব দাম যেন আর না বাড়ে।’ মিল মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পাইকারি ব্যবসায়ীরা কেজিতে ৫০ পয়সার বেশি লাভ করতে পারেন না। এর বেশি করলে দেশকে আপনারা শোষণ করতে বসেছেন, এটাও সহ্য করা হবে না। খুচরা বাজার আপনাদের কন্ট্রোল করতে হবে, মনিটরিং করতে হবে। চালের দাম আর বাড়বে না, এটি শপথ করতে হবে।’

চালের দাম আরও বাড়লে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভোক্তা অধিকার আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি, মন্ত্রণালয় থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করব। সময় বলে দেবে আর কী কী ব্যবস্থা নেব।’

বাংলাদেশ অটো, মেজর ও হাস্কিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুর রশিদ বলেন, ‘মিল মালিকদের পক্ষ থেকে চ্যালেঞ্জ করলাম, কোনো কারসাজি করে দাম বাড়ানো হয়নি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ধানের আমদানি কম হওয়ায় দাম বেড়েছে। তবে বাজার এখন স্থিরের দিকে আসছে। আমন ধান একেবারে উঠলে এরকম হতো না।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত