শিক্ষা ভবনের ‘টেন্ডারবাজ’ যুবলীগ নেতা শফিকুল

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৯, ০২:২৭ এএম

শিক্ষা ভবনের টেন্ডারবাজির ‘নিয়ন্ত্রক’ হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের ঢাকা-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামুল আহসান গাজী। কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এ নিয়ে ১৬টি মামলা করল দুদক। মামলায় শফিকুলের বিরুদ্ধে অসৎ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে ১৪ কোটি ৪১ লাখ ১৮ হাজার টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি কেন্দ্রীয় যুবলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক। ২০০০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শিক্ষা ভবনে টেন্ডারবাজি করতে গিয়ে পিটুনির শিকার হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি সাহিত্যের ছাত্র ও তৎকালীন মুহসীন হল ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঠিকাদারি শফিকুলের মূল পেশা নয়। তার পেশা টেন্ডারবাজি। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট যেকোনো কাজ যিনি পান না কেন, প্রতিটি টেন্ডারে ৫ শতাংশ কমিশন দিতে হতো শফিককে। এর মাধ্যমেই মূলত তিনি বিশাল বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন। তবে বিপুল বিত্তের

তথ্য দুদকের হাতে এলে এখনো প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেনি সংস্থাটি। সাড়ে ১৪ কোটি টাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়ায় সেসব তথ্যের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, শফিকুল ২০১৮-১৯ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথিতে মোট ৭ কোটি ১২ লাখ ৩৭ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ দেখালেও সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণে দুদকের মনে হয়েছে, ওই সব সম্পদের মূল্য অনেক বেশি। তদন্তের সময় এ বিষয়ে নিরপেক্ষ প্রকৌশলীর মতামতসহ অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হবে। এসব সম্পদ অর্জনের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পায়নি দুদক।

আয়কর নথিতে ৭ কোটি ৩৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন শফিকুল। কিন্তু এ-ও অর্জনের সপক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। দুদক বলছে, শফিকুল অবৈধভাবে অর্জিত টাকায় এসব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিকানা পেয়েছেন।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং বিভিন্ন গোপন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে শফিকুল ইসলাম অবৈধ উপায়ে নামে-বেনামে দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থসম্পদ অর্জন করেছেন। ওই সম্পদসংক্রান্ত বিষয়ে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ-প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ বিধায় তদন্তের সময় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সঠিক তথ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে তার অর্জিত সম্পদের পরিমাণ অনেক বাড়বে। শফিকুল ইসলাম নিজ নামে বা স্ত্রী-সন্তান কিংবা অন্য কারও নামে আরও সম্পদ অর্জন করেছেন কি না, সে বিষয়েও তদন্তের সময় যাচাই করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত