সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল

সম্পদ ধ্বংস করার জন্য সরকার উঠেপড়ে লেগেছে

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ০২:২২ এএম

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় থাকলেও ক্রমশ বাংলাদেশ দূষণকারী দেশ হিসেবে শীর্ষে চলে যাবে বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, ‘যে সম্পদগুলো রক্ষা করার জন্য সাধারণ নাগরিক থেকে সরকারের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকার কথা, সেই সম্পদ ধ্বংস করার জন্য আমাদের সরকার উঠেপড়ে লেগেছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আজ আমরা দেখছি কক্সবাজারে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কয়লাবিদ্যুৎ স্থাপনের প্রকল্পের ক্ষতির সম্ভাবনাগুলো কতটা বাস্তব এবং অবশ্যম্ভাবী। আমাদের সংবিধানে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ রয়েছে, সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে। সংবিধানের মাধ্যমে এ দেশের সব সম্পদ রক্ষা করার দায়িত্ব তারা নেবে। দেশের প্রত্যেকটি জনগণের নৈতিক এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে সম্পদ রক্ষার।’

সুলতানা কামাল বলেন, ‘একসময় আমরা কক্সবাজারকে বিশ্বের শীর্ষ প্রাকৃতিক স্থান হিসেবে স্বীকৃতির জন্য ক্যাম্পেইন করেছি। এখন আমরাই আবার কক্সবাজারকে ধ্বংস করছি। কক্সবাজার যদি না বাঁচে তাহলে আমরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব, আমাদের আর্থ-সামাজিক বিপর্যয় ঘটবে।’

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এ ধরনের শিল্প স্থাপনায় সর্বপ্রথম পরিবেশগত সমীক্ষা করা প্রয়োজন। মাতারবাড়ি প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে জাইকা এবং পরিবেশগত সমীক্ষাও করেছে জাইকাই। সে ড়্গেত্রে তারা নেতিবাচক দিকটি জানলেও সেটা প্রকাশ করবে না। কোনো প্রকল্পেই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পরিবেশগত কোনো সমীক্ষা করা হয়নি। এর প্রভাব মানুষের প্রকৃতির ওপর কী হবে তা-ও করা হয়নি। বিদ্যুৎ আমাদের প্রয়োজন আছে, তবে তা দেশের ও পরিবেশের ক্ষতি করে নয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বাপার নির্বাহী সহ-সভাপতি ডা. মো. আবদুল মতিন, যুগ্ম সম্পাদক শারমিন মুরশিদ, বাপার কক্সবাজার শাখার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী, বাপা মহেশখালী শাখার সদস্য সচিব আবু বক্কর সিদ্দিক প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত