ভারতের সাড়া জাগানোর অভিনেত্রী শওকত কাইফি মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। বয়সজনিত কারণে দীর্ঘদিন রোগে ভুগছিলেন তিনি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ে নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে ভারতের সংবাদমাধ্যম জানায়।
পরিবার সূত্র জানায়, বেশ কয়েকদিন ধরে বয়সজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন শওকত কাইফি। অবস্থার ক্রমশ অবনতি হচ্ছিল। তাই তাকে মুম্বইয়ের কোকিলাবেন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো আইসিইউতেই রাখা হয়েছিল তাকে। কিন্তু হাসপাতালে বেশিদিন থাকতে নারাজ ছিলেন তিনি। তার ইচ্ছানুযায়ী শুক্রবারই তাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়। এর কিছুক্ষণ পরই মারা যান তিনি। শনিবার বেলা তিনটে নাগাদ তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
বিখ্যাত উর্দু কবি ও গীতিকার কাইফি আজমির স্ত্রী ছিলেন শওকত। শাবানা আজমিরর মা ছিলেন তিনি। তারনিজের প্রতিভাও কম ছিল না। বলিউডের নামী অভিনেত্রী ছিলেন তিনি। ‘উমরাও জান’, ‘সলাম বম্বে’র মতো ছবিতে তিনি অভিনয় করেন।
এ ছাড়া ‘বাজার’, ‘গরম হাওয়া’, ‘হাকিকত’, ‘হীর রানঝা’, ‘নয়না’, ‘ফ্যায়সলা’র মতো অনেক ছবি করেছেন তিনি। কাজ করেছেন, চেতন আনন্দ, মুজাফ্ফর আলি, মীরা নায়ারের মতো পরিচালকের সঙ্গে।
মুজাফ্ফর আলির ছেলে শাদ আলির সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। তার সর্বশেষ ছবি ‘সাথিয়াঁ’ পরিচালনা করেছিলেন শাদ। ২০০২ সালে মুক্তি পেয়েছিল সেটি। তারপর থেকে আর কোনও ছবিতে তাকে দেখা যায়নি। বয়সজনিত কারণেই অভিনয় থেকে সরে যান তিনি।
পর্দার পাশাপাশি মঞ্চের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন শওকত কাইফি। ইন্ডিয়ান পিপল’স থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশন (আইপিটিএ) ও প্রগেসিভ রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন (পিডব্লিউএ)-এর সদস্য ছিলেন তিনি। বহু নাটকেও তিনি দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন।
তার ভারতের চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শাবানা আজমির স্বামী গীতিকার জাভেদ আখতার জানিয়েছেন, তার ও শাবানার সঙ্গেই থাকতেন শওকত আলি। মায়ের মতোই ছিলেন। শাবানার সঙ্গে জাভেদের প্রেম ও পরিণয়ের তার কারণেই সম্ভব হয়েছিল।
