শীত বাড়তে থাকায় রাজধানীসহ সারা দেশে বিয়ে-শাদির মৌসুম শুরু হয়েছে। গ্রামে-গঞ্জে আমন ধান কাটার পর পুরোদমে চলে বিয়ের অনুষ্ঠান। বছরে যত বিয়ে হয়, তার বড় অংশই হয় শীতকালে। আর বাংলাদেশে বিয়ে মানেই নিদেনপক্ষে কয়েক ভরি সোনা কেনা। হাতের চুড়ি, কানের দুল, নাকফুল, মাথার টিকলি, গলার হার বা চেইন ছাড়া বাংলাদেশে বিয়ে-শাদি হয় না বললেই চলে। বিয়ের এই ভরা মৌসুমের সুযোগ নিতে সোনার দাম আরেক দফা বাড়িয়ে দিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।
এবার প্রতি ভরিতে ১ হাজার ১৬৬ টাকা বাড়িয়েছে সোনা ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এতে ভালোমানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের সোনা ৫৮ হাজার ২৮ টাকা। আজ রবিবার থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হবে বলে গতকাল শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানিয়েছে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে সনাতন ও রুপার দাম। এর আগে টানা চারবার বাড়ানোর পর গত ১০ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ সোনার দাম কমানো হয়। দেশি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় মার্কেটে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, নতুন দর অনুযায়ী প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের সোনা ৫৮ হাজার ২৮, ২১ ক্যারেট ৫৫ হাজার ৬৯৫ এবং ১৮ ক্যারেট বিক্রি হবে ৫০ হাজার ৬৮০ টাকায়। তবে সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম এ যাত্রায় বাড়ানো হয়নি। সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ভরিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৯ হাজার ১৬০ টাকা। এদিকে প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট রুপার (ক্যাডমিয়াম) দাম পূর্বের নির্ধারিত ৯৩৩ টাকাই বহাল রাখা হয়েছে। এর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে বলে দাবি করে আগস্ট মাসের ৬, ৮, ১৯ ও ২৭ তারিখ দাম বাড়ায় বাজুস।
এর আগে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগারওয়াল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে সোনা-রুপার দাম ওঠানামা করে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ দাম বলবৎ থাকবে।’
ব্যবসায়ীরা জানান, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে সোনা আমদানি খরচ বেশি হচ্ছে। সোনা যেহেতু পুরোটাই আমদানিনির্ভর তাই দামও বেশি পড়ছে। তবে বাজুসের নির্দেশনা মেনেই তারা সোনা বিক্রি করে থাকেন বলে জানান।
