মহেশপুর সীমান্তে আরও ২১ ভারতীয় আটক

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৯, ০১:৩৩ এএম

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে ভারত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় আটক হয়েছে আরও ২১ নারী, পুরুষ ও শিশু। গতকাল শনিবার ভোর ও আগের দিন শুক্রবার রাতের বিভিন্ন সময়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টহল দলের সদস্যদের হাতে ধরা পড়ে তারা। এ ছাড়া অনুপ্রবেশকারীদের টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশে ঢুকতে সহযোগিতার অভিযোগে আটক হয়েছে শাহ আলম (৩৫) নামে এক দালাল। তাদের সবাইকে মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। সম্প্রতি ভারত থেকে নানাভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বেড়েছে। গত ৩১ আগস্ট এনআরসি ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে ঝিনাইদহ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা

ও কুষ্টিয়ার সীমান্ত দিয়ে মাঝেমধ্যেই দুয়েকটি পরিবার দালালদের মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে সীমান্ত পার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর মধ্যে এ মাসের শুরু থেকে এই অনুপ্রবেশের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর মধ্যে বিজিবি দুই শতাধিক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে। তবে এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো পক্ষ থেকে নির্দেশনা নেই বলে নয়াদিল্লি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বিজিবির ৫৮ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর কামরুল হাসান দেশ রূপান্তরকে জানান, শনিবার ভোর ৫টার দিকে মহেশপুরের পলিয়ানপুর বিওপির একটি টহল দল সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার পর ১৫ অনুপ্রবেশকারীকে আটক করে। এদের মধ্যে ৬ পুরুষ, ৫ নারী ও ৬ শিশু রয়েছে। একই সময়ে ওই ১৫ জনকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশে সহায়তার অভিযোগে শাহ আলম (৩৫) নামে এক বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। তার বাড়ি পলিয়ানপুর গ্রামে। অন্যদিকে কাছাকাছি সময়ে জলুলি বিওপির একটি টহল দল মগদাসপুর গ্রামের একটি মাঠ থেকে আরও পাঁচ অনুপ্রবেশকারীকে আটক করে। যাদের মধ্যে একজন পুরুষ, দুজন নারী ও দুই শিশু রয়েছে। এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে বিজিবির জলুলি বিওপির সদস্যরা মাঠপাড়া এলাকা থেকে আরও এক অনুপ্রবেশকারী আটক করে। আটকদের সবাই ভারতের বেঙ্গালুরুতে বসবাস করত।

আটক ২১ অনুপ্রবেশকারীকে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করার দায়ে পাসপোর্ট অধ্যাদেশে মামলা দিয়ে মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয় বলেও জানান বিজিবি কর্মকর্তা মেজর কামরুল।

মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে চলতি মাসে ভারত থেকে দলে দলে লোক বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। হঠাৎ করে এই অনুপ্রবেশ বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিজিবি সীমান্তবর্তী এলাকায় কড়া নজরদারি করছে। এর পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে স্থানীয়দের নিয়ে প্রতিরোধ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।  কিন্তু এখনো সেই কমিটি গঠন হয়নি। স্থানীয়রা বলছেন, তারা কমিটি গঠনের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন। তবে দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় কমিটি গঠনের কাজ এখনো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। আজ রবিবার এসব কমিটি গঠন করা হতে পারে।

সরেজমিনে সীমান্ত এলাকা ঘুরে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি মানুষ আসছে পলিয়ানপুর, রায়পুর ও মাটিলা এলাকা দিয়ে। স্থানীয়রা আরও বলছেন, তারা আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে খবর পাচ্ছেন যে, ওপারে ভারতের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের জন্য আরও অনেক মানুষ জড়ো হয়েছেন। যারা দালালের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত